‘দলীয় সরকারকে বিশ্বাস করতে হবে আমাদের পক্ষে সিঙ্গাপুর হওয়া সম্ভব’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, আগামী ৩০ বছরে হয়তো আমরা ৬টি সরকার দেখবো এবং ৬টি সরকারকেই বিশ্বাস করতে হবে—আমাদের পক্ষে সিঙ্গাপুর হওয়া সম্ভব, তা নাহলে আমাদের এই প্রকল্প হবে না। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে অগ্রগতিকে মাথায় রেখে জোর দিতে হবে। তা নাহলে আমাদের এই ৩০ বছরের স্বপ্ন সফল হওয়া কঠিন হবে। 

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আশিক মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে আমি সবসময় মনে করি, বিনিয়োগ আর কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এগুলো সচরাচর এজেন্ডা। এটা রাজনৈতিক এজেন্ডা না। আজকে অন্তর্বর্তী সরকার আছে, আগামি পাঁচ বছর দলীয় সরকার থাকবে, এরপরের পাঁচ বছর আরেকটা দলীয় সরকার থাকবে। যেকোনও দলীয় সরকার থাকুক এবং পৃথিবীতে যদি ইতিহাস দেখেন, যেসব দেশ আসলেই ভালো করেছে, তারা কিন্তু পাঁচ কিংবা তিন বছরের মধ্যে উন্নতি করেনি। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেখানে সব রাজনৈতিক দলকে একত্রিত হতে হবে।

৩০ বছর পর মাতারবাড়ী ও মহেশখালীকে চীনের সাংহাই বা সিঙ্গাপুরের বন্দরের মতো উন্নতমানের বন্দর তথা কমার্শিয়াল হাব হিসেবে দেখতে চাই, উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে ২৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

বিডার চেয়ারম্যান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে আমরা ১২০ দিনের একটি কাজ হাতে নিয়েছি। আগামী ১২০ দিনের মধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এমআইডিএ) ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৩৩ হাজার একর আয়তনের জমিতে তিনটি ধাপে (২০২৫ থেকে ২০৩০, ২০৩০ থেকে ২০৪৫ ও ২০৪৫ থেকে ২০৫৫) এই প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।

মহেশখালী ও মাতারবাড়ী নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানিয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, আমরা এটাকে টাউনশিপ হিসেবে দেখতে চাই। পৃথিবীর সবচেয়ে সাকসেসফুল ডিপ সি পোর্টসহ টাউনশিপ সিঙ্গাপুরকে বলা হয় এবং আরেকটা পোর্টের কথা প্রায়ই উঠে আসে, সেটা হচ্ছে সাংহাই। মনে করেন যে, আমরা বাংলাদেশের একটা সিঙ্গাপুর করতে চাই, বা বাংলাদেশের ভেতরে একটা সাংহাই পোর্ট করতে চাই।

প্রকল্পের পরিকল্পনা ৩০ বছরের জন্য করা হয়েছে জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ৩০ বছর পরে আমরা এই মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকাটাকে সিঙ্গাপুর বা সাংহাইয়ে মতো করে দেখতে চাই। এটা কোনও নৌযানের শহর না, এটা একটা স্যাটেলাইট শহর না— এটা হবে শহরতলি, চট্টগ্রামের মতো আরেকটা বাড়তি শহর। যেটা সংস্কারকৃত এবং নতুন ধরনের।

মাতারবাড়ী শহর হলে দেশের অর্থনীতির জিডিপিতে প্রায় দেড়শ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হবে বলে উল্লেখ করেন আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রায় দেড়শ বিলিয়ন ডলারের মতো আমরা জিডিপিতে কোন কন্ট্রিবিউশন করছি, এই এলাকার থেকে। এটা হবে বাণিজ্যিক হাব। যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের রিজার্ভে সঞ্চিত হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, প্রায় দেড় লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে আশা প্রকাশ করে আশিক চৌধুরী বলেন, চূড়ান্তভাবে প্রায় দেড় লাখ লোকের প্রত্যক্ষভাবে  কর্মসংস্থান  আমরা আশা করছি। এছাড়াও পরোক্ষভাবে  প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান আমরা আশা করছি।

৪টি পিলারের ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্প কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেগুলো হলো— গভীর সমুদ্র বন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, সুবিধা প্রদান কেন্দ্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সামুদ্রিক মাছ ধরার কেন্দ্র।

এ প্রকল্প ৩টি ধাপে ২০২৫ সাল থেকে ২০৫৫ সাল পর্যন্ত কাজ করবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, তিনটা পিরিয়ডে এই প্রকল্পকে ২০২৫ সাল থেকে ২০৫৫ সাল পর্যন্ত সাজাতে পারেন। প্রথম পাঁচ বছরকে আমরা বলছি বিকাশকাল, এই সময়ে ফাউন্ডেশন এর কাজ, সড়ক সংযোগের কাজ করা হবে। এরপরের সময়টা হচ্ছে পরিবেশ উন্নয়নকাল, সেখানে আমরা বন্দর উন্নয়নের কাজগুলো শেষ করবো। সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিল্প কারখানা দাঁড়িয়ে যাবে। এটা ২০৪৩-৪৪ সাল  পর্যন্ত হবে আমরা আশা করছি। চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা শেষ ১০ বছর একটি পর্যটনের কথা চিন্তা করতে পারি।

তিনি বলেন, ২০৩০-২০৪০ সাল নাগাদ আমরা একটা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারবো, বলে আশা করি। আর চূড়ান্ত ফেজে যেটা হবে ২০৪৫-২০৫৫ সালের মধ্যে, তখন আমরা পর্যটনের কথা চিন্তা করতে পারি, একটা ইকো ট্যুরিজম। তখন কিন্তু মহেশখালী আর কক্সবাজার এক হয়ে যাবে, মহেশখালী বিস্তৃত হতে হতে কক্সবাজারে ঢুকে যাবে। একদম নতুন টাউন, নতুন কমার্শিয়াল হাব হিসেবে চালু হবে। এটা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। ২০৫৫ সালে গিয়ে আমরা এমন কিছু আশা করবো এবং এখন থেকে আমাদের সেই কাজ শুরু করতে হবে।