হাই-প্রোফাইল ইভেন্ট করার পরও রোহিঙ্গা সংকট প্রাপ্য মনোযোগ পাচ্ছে না: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন করাই এই সংকটের একমাত্র কার্যকর ও টেকসই সমাধান। তিনি তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত একবছরে, রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের ক্যাম্প পরিদর্শনসহ বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল ইভেন্টের আয়োজন করা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা সংকট প্রাপ্য মনোযোগ পাচ্ছে না, তবে মানবিক সংকট হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) নবনিযুক্ত প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা ‘নাটকীয়ভাবে হ্রাস’ হিসেবে তুলে ধরেন এবং বসতিগুলোতে বৃহত্তর আত্মনির্ভরতা ও জীবিকার সুযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে দীর্ঘদিন অবস্থান কখনোই সমাধান হতে পারে না, কারণ এটি ইতোমধ্যে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং তিনি প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “সমস্যার সূত্রপাত মিয়ানমার থেকে শুরু হয়েছে এবং এর সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির অ্যাক্সেস নিয়ে শিবিরগুলোতে বেড়ে উঠছে। এটা কারো জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে তারা যাতে শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে আসে তা নিশ্চিত করা।”

বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রফেসর ইউনূস বলেন, অনেক শরণার্থী ভাসানচর দ্বীপের আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে গেছে, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ২০১৭ সাল থেকে বেশ কয়েকবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন পরিচালনায় নতুন মান নির্ধারণ করতে চাই। আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত নির্বাচন নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করে। প্রথমবারের মতো এবং নতুন ভোটারদের জন্য, আমরা প্রক্রিয়াটি উপভোগ্য হতে এবং একটি উৎসব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাই।”

এসময় এসডিজি সমন্বয়ক ও সরকারের সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।