‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’র অগ্রগতির প্রশ্নে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সংসদকে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৫তম দিনে সভাপতিত্ব করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের চূড়ান্ত করা নকশা অনুযায়ী ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ ২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করার পর ২০১৩ সালে সম্পন্ন করা হয়। এরপর এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয় সমীক্ষার ২০১৬ সালের মধ্যে।
সংসদে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ তার লিখিত প্রশ্নে বলেন, পদ্মা অববাহিকার বিশাল কৃষি অঞ্চলকে মুরুময়তা থেকে বাঁচাতে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প। পদ্মা সেতু সম্পন্ন হওয়ার পর এই ব্যারেজটির প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই বিশাল প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি কী এবং প্রকল্প দ্রুত শেষ করে এর সুফল ২১ জেলার জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কোনও অগ্রাধিকারমূলক সময়সীমা নির্ধারণ করলেন কিনা।
জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশজুড়ে বিস্তৃত এবং যেখানে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষের বসবাস। প্রকল্পটি নদী নির্ভরশীল জনগণের জীবনরক্ষাকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।
এ্যানি জানান, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিনের। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্প প্রণয়নের উদ্দেশ্যে মোট চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরে ২০০২ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। ২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়; যা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী আরও জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের ডিপিপি ইতোমধ্যে প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।