ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘নির্বাচনের আগে একটি গোষ্ঠীকে কী কারণে ৪০ কোটি টাকা ঋণ, তদন্ত হবে’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক থেকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়াই একটি গোষ্ঠীকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়াই একটি গোষ্ঠীকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, যার কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা নেই। এছাড়া সামাজিক কর্পোরেট দায়িত্ব (এসআর) কর্মসূচির নামে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে, যেগুলো তদন্তের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও চাকরিচ্যুতির বিষয়েও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৯ হাজার জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতির অভিযোগও রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণ বিতরণ, বিশেষ করে আরডিএস প্রকল্প এবং নির্বাচনের আগে অর্থ বিতরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব পক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত হতে হবে। শুধু অভিযোগ নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

তিনি আরও দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনও প্রমাণিত অভিযোগ নেই। তাই প্রাথমিকভাবে তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনও অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই তদন্ত করা হবে, তবে তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়।