বিয়ে-শাদি, শালা-দুলাভাই নিয়ে সংসদে হাস্যরস 

গ্যাস-সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা শেষ পর্যন্ত সংসদে বিরল এক হাস্যরসের মুহূর্ত তৈরি করে। যেখানে নাটোরের গ্যাসের দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় ‘নাটোরের জামাই’, ‘শ্বশুরবাড়ির আবদার’ আর ‘নোয়াখালীতে আরেক বিয়ে’র প্রসঙ্গ।  

বুধবার (১০ জুন) কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে নাটোরে শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাতে গ্যাস-সংযোগের বিষয়টি উত্থাপন করেন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার। 

জবাব দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ শুরুতেই সংসদে কিছুটা হালকা আবহ তৈরি করেন। তিনি নিজের পরিচয় দেন ‘নাটোরের জামাই’ হিসেবে।  

এক পর্যায়ে রসিকতা করে স্পিকার বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে জিজ্ঞাসা করেন বিয়ে করবেন কিনা? এসময় বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, “তিনটা বাকি আছে আমার এখনও, কিন্তু আমার সখ নাই আর বেশি করার, যেটা করছি এটাই যথেষ্ট, মাননীয় স্পিকার আপনাকে ধন্যবাদ।”  

রসিকতার আড়ালে তিনি গ্যাস খাতের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। এরপর আবার ফিরে আসেন নাটোর প্রসঙ্গে। ‘নাটোর আমার শ্বশুরবাড়ি। এখানে তো গ্যাস দিতেই হবে’, বলে সংসদে হাসির আবহ তৈরি করেন তিনি। সঙ্গে বলেন, দেশে নতুন গ্যাস পাওয়া গেলে এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে নাটোরেও গ্যাস পৌঁছাবে। 

মন্ত্রীর জবাবের পর স্পিকার রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে বলেন, আপনি মন্ত্রীকে একটা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন করতে পারেন। এমন প্রশ্ন করবেন না যে,  ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করেন নাই? 

সম্পূরক প্রশ্নে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার নাটোরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে গ্যাস-সংযোগের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চান। এসময় তিনি মন্ত্রীকে ‘দুলাভাই’ হিসেবে উল্লেখ করেন। 

জবাবে মন্ত্রী মজা করে বলেন, ‘এটা তো শ্বশুরবাড়ির আবদার হয়ে গেলো।’ 

কিন্তু আলোচনার সবচেয়ে মজার মুহূর্তটি আসে পরে। নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দাঁড়িয়ে রসিকতা করে বলেন, মন্ত্রী যদি নাটোরে শ্বশুরবাড়ির কারণে গ্যাস দেওয়ার কথা বলেন, তাহলে নোয়াখালীতেও যেন একটি বিয়ে করেন। তাহলে নোয়াখালীবাসীও গ্যাস পাওয়ার আশা করতে পারে। 

খোকনের এই মন্তব্যে সংসদকক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়। পরিস্থিতি আরও জমে ওঠে যখন স্পিকার সরাসরি জ্বালানিমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি বিয়ে করতে চান?’ 

উত্তরে মন্ত্রীও রসিকতার সুর বজায় রাখেন। বিরোধী দলের সদস্যদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমার সামনে ওনারা বসে আছেন। ওনারা শরিয়াহ আইন ভালো বোঝেন। তিনটা বাকি আছে আমার এখনও। কিন্তু আমার শখ নাই আর বেশি করার। যেটা করছি সেটা যথেষ্ট।’ 

এরপর স্পিকার সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন ফারুকে মাইক দিতে বলেন। মাইক নিয়ে জয়নাল আবদীন ফারুক বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার এখানে বিয়া-শাদি ব্যাপার, শালা-দুলাভাইয়ের ব্যাপার, এদিকে যাবো না।’