চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমন প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কমিশনের জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচন কমিশনের পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭৫৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইসির জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৪৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। ওই অর্থবছরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন, চারটি পৌরসভা সাধারণ নির্বাচন, ১০টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উপনির্বাচন আয়োজন করা হবে।
এছাড়া কেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপন, ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ, পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত, মুদ্রণ ও বিতরণ, স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান, ১৮ বছরের কম বয়সী নাগরিকদের নিবন্ধন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন ও স্মার্ট এনআইডি প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
বাজেট প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এনআইডি সিস্টেমের অডিট ও ডকুমেন্টেশন, কুমিল্লায় আঞ্চলিক সার্ভার স্টেশন ভবনে ফাংশনাল ডিআরএস স্থাপন, এনআইডি সিস্টেমকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর কমন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে সাইবার সেন্সর সিস্টেম স্থাপন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই-সংক্রান্ত পার্টনার সার্ভিস অব্যাহত রাখা এবং নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।