জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তনের ফলে হামের টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কিনা, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “পর্যালোচনায় কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এদিন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে উপস্থিত না থাকলেও নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
জামালপুর-৩ আসনের সাংসদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর দায় কার এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনবার জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাস্তবায়ন করে আসছে। হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ, বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়।”
তিনি বলেন, “ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে হয়ে থাকে। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কিনা, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনায় কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তারেক রহমান বলেন, “ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ইতোমধ্যে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, টিকা মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ, রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া দেশে হামের টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”