আবহাওয়া অধিদফতর জানাচ্ছে, এপ্রিল ও মে মাস হচ্ছে আমাদের এখানে উষ্ণতম মাস। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, এতে গরম কিছুটা কমে আসবে। চলতি মাসেই তাপমাত্রা হবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার এ মাসেই তিন ধরনের তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে। এছাড়া মৃদু তাপপ্রবাহের জন্য তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি, মাঝারি মানের তাপপ্রবাহের কারণে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মমকর্তা হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এপ্রিল জুড়েই ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা পরিবর্তিত হবে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর ও মধ্যামাঞ্চলে গরম হবে তীব্র।
ভারতেও তীব্র তাপদাহে ইতোমধ্যেই মানুষের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, ভারতের তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। তেলেঙ্গানায় এ বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, গত কয়েকবছর ধরেই শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার সময়ে আবহাওয়া তার চিরায়ত নিয়ম মেনে চলছে না। গত মার্চেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ৪৫ ভাগ, সঙ্গে ছিল ঝড়ও, হয়েছে শিলাবৃষ্টি। চলতি মাসেও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা তীব্র। এমনকি, এ মাসের মাঝামাঝি থেকেই ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে, তবে গরম কমবে না, তার দাপট থাকবে তীব্র। বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ হতে পারে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের একইসঙ্গে ঝড়-বজ্রবৃষ্টি এবং কালবৈশাখীর আশঙ্কাও তীব্র বলে জানান হাফিজুর রহমান। অপরদিকে, পাহাড়ি ঢলের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যাও হতে পারে।
হাফিজুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরই এমন গরম ছিল এপ্রিল মাসে। আরও দুদিন এ তাপমাত্রা থাকবে। তবে তাপমাত্রা বাড়বে না।
আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জানা যায়, ঢাকা বিভাগে চলতি মাসে আট থেকে ১০ দিন ১৪০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবার সিলেটে ১৬ দিনের বৃষ্টি হতে পারে ৩০০ থেকে ৩৭০ মিলিমিটার। তবে তুলনামূলকভাবে রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টি কম হবে। গত বছরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হয়েছে, তবে সেটি মে মাসের দিকে।
এদিকে চৈত্রের অসহ্য গরমের প্রভাবে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ডায়রিয়া, জ্বর, গলা ব্যথা নিয়ে নানা বয়সীরা ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।
শিশু এবং বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে- শিশুরা ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি, গলাব্যাথায়, নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা, আমাশয়ে আক্রান্ত হচ্ছে পানি শূন্যতার কারণে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইফফাত আরা শামসাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডায়রিয়াতেই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এর পাশাপাশি রয়েছে চিকেন পক্স, পানি শূন্যতা, জ্বর, আমাশয়। আর এ থেকে বাঁচতে শুধু শিশু নয়, গরমের এই সময়টাতে সবাইকে বেশি করে পানি খেতে হবে। বিশেষ করে লেবুর শরবত, ডাবের পানি, স্যালাইন খেতে হবে। তাহলে শরীরে পানি শূন্যতা হলেও সে জায়গায়টা পূরণ হবে। এতে করে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে কথা হয় সাত বছরের আলিফের মা নুপুর বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের গরমে ছেলে আলিফ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে, সেই সঙ্গে রয়েছে গলাব্যথা। অপরদিকে বয়স্কদের রয়েছে স্ট্রোক ঝুঁকি। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে আর পানি এবং পানি জাতীয় খাবার বেশি খেলেই মৌসুমী এসব রোগ থেকে বাঁচা যাবে বলে জানান চিকিৎসকেরা।
/এজে/