আকামা/তাসরিয়াবিহীন বাংলাদেশিদের আইনি বৈধতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে জর্ডান সরকার। বাংলাদেশিদের আকামা/তাসরিয়া নবায়ন করার মাধ্যমে আইনি বৈধতা অর্জন ও কর্মস্থল বা পেশা পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস।
১/ সময়সীমা- উক্ত আদেশ এই বছরের ১৫ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
২/ কারা এ আইনের আওতা থেকে বাদ পড়বেন?
ক) যেকোনও ভিসায় আগত বাংলাদেশি যারা ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এর পরে জর্ডানে প্রবেশ করেছেন
খ) বিশেষজ্ঞ ভিসায় নিয়োগপ্রাপ্ত যেমন অনুবাদক, গাড়ি চালক, মেকানিক, আইটি স্পেশালিস্ট, ইলেকট্রিশিয়ান, কাঠমিস্ত্রি ইত্যাদি
গ) যারা বিচারাধীন বা সাজা ভোগ করছেন
এ ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশটিতে থাকা বিদেশি শ্রমিকদের আইনি অবস্থান পরিবর্তন ও বৈধকরণ এবং বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তন এ সহায়তা করা।
৩/ যারা স্থায়ীভাবে দেশে চলে যেতে চান
ক) সব ধরনের জরিমানা মাফ: যেসব বাংলাদেশি কর্মী স্থায়ীভাবে/চিরদিনের জন্য জর্ডান ছেড়ে চলে যেতে চান, সাধারণ অবস্থায় তাদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া সব ধরনের জরিমানা মাফ করা হবে। অর্থাৎ তাদের অতীতের যেকোনো গারামা/জরিমানা মাফ করা হবে।
খ) সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল: স্থায়ীভাবে/চিরদিনের জন্য জর্ডান ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক প্রবাসীরা ভ্রমণের আগে মাত্র ১০ জর্ডান দিনার প্রক্রিয়াকরণ ফি দিয়ে তাদের সোশ্যাল সিকিউরিটি সঞ্চয় উত্তোলন করতে পারবেন।
বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস/ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে টিকিট কেটে সরাসরি দেশে চলে যেতে পারবেন।
৪/ যারা জর্ডানে থেকে যেতে চান, কাজ করতে চান
এ ঘোষণার মাধ্যমে জর্ডানে অবৈধভাবে অবস্থানরতদের বৈধতা অর্জন করে জর্ডানে থাকার ও কাজ করার জন্য শর্তসাপেক্ষে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শর্তগুলো হলো-
(ক) পূর্ববর্তী বছরের ওয়ার্ক পারমিট/তাসরিয়াহ ফি-এর ওপর ৫০ শতাংশ ছাড়: যদি বিগত বছরগুলোতে কোনও কর্মী তাসরিয়াহ নবায়ন না করে থাকেন, তবে তাকে পূর্ববর্তী প্রতিবছরের নির্ধারিত ফি এর মাত্র অর্ধেক (৫০%) এবং পরবর্তী / চলতি বছরের সম্পূর্ণ ফি প্রদান করতে হবে।
খ) তাসরিয়াহ বা আকামা নবায়ন করতে দেরি হলে যে বার্ষিক জরিমানা দিতে হয় তা ১০০ ভাগ মওকুফ করা হয়েছে।
গ) বিদেশি নাগরিকদের মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থানের/রেসিডেন্সির/আকামার গারামার বিলম্ব ফি ১০০ ভাগ মওকুফ করা হয়েছে।
তাসরিয়া করার জন্য ওজারাতুল আমাল এ যোগাযোগ করতে হবে। তাসরিয়া হয়ে গেলে নিকটস্থ মারকাজ শুরতা/মারকাজুল আমালে গিয়ে আকামা করাতে হবে।
৫/ গৃহকর্মীদের জন্য নিয়মাবলী
এ ঘোষণার মাধ্যমে এ দেশে কর্মরত গৃহকর্মীদের বৈধতা অর্জন/আকামা পাওয়া এবং কর্মস্থল/কফিল বদলানোর সুযোগ শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছে- যা হলো
ক) কমপক্ষে দুই বছর আগে যাদের আকামা ও তাসরিয়াহর মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা তাদের পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তার অনুমোদন ছাড়াই নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে অন্য যেকোনও কাজে যোগদান করতে পারবেন।
খ) এ জন্য প্রযোজ্য জরিমানা/গারামা ও অন্য শর্তাবলী ওপরের বিধানাবলী ০২ (যারা জর্ডানে অবস্থান করে কাজ করতে চান) এ দেওয়া হয়েছে।
৬/ সেক্টর/কাজের ক্ষেত্র পরিবর্তনের স্বাধীনতা:
উক্ত ঘোষণার মাধ্যমে এ দেশে কর্মরতদের কর্মস্থল ও পেশা/কাজের ধরণ বদলের সুযোগ ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
ক) আগ্রহী শ্রমিকরা এ আদেশের ফলে কোনও বাধা ছাড়া এক কাজ থেকে অন্য কাজে যেতে পারবেন (যেমন গার্মেন্টস থেকে গৃহকর্মী বা গৃহকর্মী থেকে কৃষিকর্মী)।
খ) এক শহর থেকে অন্য শহরে গিয়ে নতুন কাজের অনুমতি নিতে পারবেন
গ) ফ্রি ওয়ার্ক পারমিট (ফ্রিল্যান্স) পেতে পারবেন অর্থাৎ যেকোনও কাজ করতে পারবেন।
ঘ) উন্নয়ন, মাদীনা সানাইয়া (বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল) বা ফ্রি জোনের মধ্যে গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল সেক্টরের যে সব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের/তাসরিয়াহর মেয়াদ ২ বছরের বেশি সময় আগে শেষ হয়ে গেছে, তারা পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তার অনুমোদন ছাড়াই অন্যত্র নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন।
৭/ ভিজিট ভিসাকে ওয়ার্ক ভিসায় বদল:
যেসব ব্যক্তি ভিজিট ভিসায় (পর্যটক, পারিবারিক ইত্যাদি) জর্ডানে এসেছেন, তারা এখন প্রথমবারের মতো ওয়ার্ক পারমিট/তাসরিয়াহ/আকামার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য তাদের আর জর্ডান ত্যাগ করার দরকার নাই।
৮/ যারা স্থায়ীভাবে দেশে চলে যেতে চান তাদের জন্য করণীয়:
ক) আপনার বৈধ বা মেয়াদ থাকা পাসপোর্টটি হাতের কাছে রাখা
খ) বৈধ পাসপোর্ট না থাকলে দূতাবাসে নতুন পাসপোর্ট এর আবেদন করা
গ) পাসপোর্ট না থাকলে দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস/ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা
ঘ) ট্রাভেল পাস/ট্রাভেল ডকুমেন্ট পাওয়ার জন্য মেশিন রিডঅ্যাবল পাসপোর্ট/ই-পাসপোর্ট/জাতীয় পরিচয়পত্র/ডিজিটাল অনলাইন জন্মসনদ (মূল কপি, মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও চলবে) আবেদন করতে হবে
ঙ) ট্রাভেল পাস/ট্রাভেল ডকুমেন্ট পাওয়ার জন্য অবশ্যই হারানো পাসপোর্টের জন্য সাধারণ ডায়েরি/ জিডি করে এর কপি ও পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হবে
চ) আবেদনের সঙ্গে তিন কপি ছবি দিতে হবে। আবেদন ফি ৩০,০০০ জর্ডান দিনার মাত্র
৯/ মামলা থাকা/না থাকা যাচাই করা:
কারও নামে মামলা আছে কি না তা সরাসরি নিকটস্থ থানায় গিয়ে বা ১১৭১১১ নম্বরে ফোন করে যাচাই করা যাবে। এ জন্য আপনার পাসপোর্টের ওপরে স্টিকারে লেখা ১০ অঙ্কের নম্বরটি লাগবে।
দূতাবাস জানায়, দালাল বা প্রতারণা থেকে বাঁচুন, কারও সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করবেন না। প্রয়োজনে দূতাবাসের সাহায্য নিন।