স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি সংসদে 

এদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা ছিল তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি-দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি বলেন, “এই দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। যে দলটি বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরুদ্ধে ছিল। আমি এই মহান সংসদে দাবি করবো— তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। তাদের রাজনীতিও ফ্যাসিস্টদের মতো নিষিদ্ধ করা হোক।” 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। 

ঝালকাঠি -১ আসনের বিএনপি-দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “মাননীয় স্পিকার, সময় কম আমাকে একটু সময় বাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ আপনি জানেন আমি একটি বিতর্কিত এলাকা থেকে এসেছি। আমার জনসাধারণের কথা বলতে হবে। একটি অনুন্নত এলাকা থেকে এসেছি মাননীয় স্পিকার। আমরা বলি— গত ১৭ বছর আমরা দেখেছি, এই বাজেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বাজেট রাখা হয়েছে যেটা ইতোপূর্বে কখনোই রাখা হয়নি। গত ১৭ বছর আমরা দেখেছি এদেশের ইমাম সমাজকে কীভাবে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে খুন করা হয়েছে। আমরা দেখেছি সেই শাপলা চত্বরে আমাদের মাদ্রাসার ছাত্রদের বিনা অপরাধে লাইট বন্ধ করে কীভাবে নির্যাতন এবং কীভাবে তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল।” 

বাজেটের প্রসঙ্গ তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমরা এই বাজেটের দিকে যদি তাকাই তাহলে আমরা বুঝবো এই বাজেট যেভাবে সব মানুষের জন্য কাজ করছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের ইসলাম প্রিয় মানুষের, ইসলাম নিয়ে যারা নিয়ে চর্চা করে— এই বাজেটে কওমি মাদ্রাসার জন্য আলাদা কোনও বাজেট রাখা হয়নি। আমি অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো কওমি মাদ্রাসার জন্য বাজেট রাখতে হবে।” 

সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন নামের পরে ধর্ম থাকলেই ইসলাম হয় না। ইসলাম নাম বলেই যেভাবে ধর্মের রাজনীতি করেন, গত নির্বাচনে তারা ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দিয়েছেন। আমরা দেখেছি বিড়ির সুখ-টানের মধ্য দিয়েও তারা বলেছে যে সব পাপ মওকুফ হয়ে যাবে। এভাবে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা এই ইসলামের নামে রাজনীতি করছে। এই দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। যে দলটি বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরুদ্ধে ছিল। আমি এই মহান সংসদে দাবি করবো— তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। তাদের রাজনীতিও ফ্যাসিস্টদের মতো নিষিদ্ধ করা হোক।” এরপর তিনি নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করার জন্য আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন— তার প্রতিফলন ঘটেছে এই বাজেটের মধ্যে। এই বাজেট সম্পর্কে যদি আমরা খুব সূক্ষ্মভাবে দেখি জনকল্যাণের জন্য আমরা প্রতিটা বাজেটের পরেই দেখি বাজারে মূল্য বৃদ্ধি হয়। কিন্তু এই প্রথম বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে বাজেটের প্রতিফলন বাজারে কোনোভাবেই কোনও দ্রব্যমূল্য বাড়েনি বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে কমা উচিত। কারণ যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন আমাদের নিত্যপণ্য দ্রব্যের ওপরে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রতিবছর রোজার মাসে যেভাবে বাজারের অগ্নিমূল্য হয়, আমরা বিশ্বাস করি আগামীদিন সেই ধরনের রূপ আমাদের দেখতে হবে না। এই বাজেট যদি আমরা দেখি আমাদের ৩১ দফায় যেরকম নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা ছিল ঠিক একইভাবে এই বাজেটে মানুষ উপকৃত হতে পারে। কতটা মানবীয় হলে আমরা বুঝি যে। আমাদের দুরারোগ্য একটি কঠিন ব্যাধি হার্টের রোগের জন্য রিংয়ের শুল্ক কমিয়েছে, এতে মানুষ উপকৃত হবে। দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা যে লেন্স ব্যবহার করি সেখানেও মানবীয় এই বাজেটে শুল্ক কমিয়ে অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে।”