‘ডাল-ভাতের বাজেট করে বিরিয়ানি খাওয়া যায় না’

বিরোধী দলের সমালোচনা ও বিশাল আকারের বাজেট প্রসঙ্গে তথ‌্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সবাই বেহেশতে যেতে চায়, কিন্তু কেউ মরতে চায় না। সবাই এলাকায় উন্নয়ন চান, কিন্তু বলেন বাজেট অনেক বেশি হয়ে গেছে। যদি উন্নয়ন চান, বাজেট বরাদ্দ তো বেশি হতেই হবে। বাসায় আপনি যদি ডাল-ভাতের বাজেট করেন, আর খেতে চান বিরিয়ানি— সেটা তো চলবে না।

একইসঙ্গে তিনি জানান, বিগত সময়ের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ এ দেশের মানুষ প্রায় বিনামূল্যেই দেখতে পাবে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

দেশের ক্রান্তিলগ্নে জিয়া পরিবারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী দেয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনরায় স্বাধীন হয়েছিল। আর এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বাংলাদেশ পুনরায় স্বাধীন হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, জিয়া পরিবার বারবার বাংলাদেশকে উদ্ধার করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমাদের স্মার্ট ও অভিজ্ঞ অর্থমন্ত্রীর দেওয়া এই বাজেট শুধু সময়োপযোগী বা মানবিকই নয়, এটি একটি সুদূরপ্রসারী প্ল্যান। বিগত ১৭ বছর দেশে লুটপাট চলেছে, অর্থনীতি ও শিক্ষানীতিসহ প্রতিটি খাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর জন্যই এই সুন্দর বাজেট দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বারবার অমুক হাসপাতাল বা অমুক রাস্তা করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এর মানে হলো, আমাদের সরকারের প্রতি, অর্থমন্ত্রীর প্রতি আপনাদের আস্থা আছে। আপনারা জানেন যে, আমরাই এই উন্নয়নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো।

নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ডের প্রতিশ্রুতিকে যারা ভুয়া বলেছিলেন, তারাই এখন এই কার্ডের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্ল্যান তারা মুখে না মানলেও বুকে ধারণ করেন। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা শুধু একটি পরিবারকে স্বাবলম্বীই করবে না, এর একটি রিপল ইফেক্ট আছে। এই টাকা যখন গ্রামের মুদি দোকান বা ওষুধের দোকানে খরচ হবে, তখন গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাও ঘুরবে। ৪০ লাখ পরিবার এই কার্ড পেলে একদিন বাংলাদেশ নিজের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াবে।

নিজের মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই জানেন বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে পারবে। আমাদের মন্ত্রণালয় ফিফার সঙ্গে চুক্তি করে ৪৭ কোটি টাকা দিয়ে যে সম্প্রচার স্বত্ব (রাইটস) কিনেছিল, ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে তা বিক্রি করে আমরা প্রায় ৪৪ কোটি টাকা উদ্ধার করতে পেরেছি। অর্থাৎ প্রায় বিনামূল্যেই বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ প্রচার হবে। যে দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছিল, আমাদের মন্ত্রণালয় সফলভাবে সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে সক্ষম হয়েছে।

তরুণ ও শিশুদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাওয়া সফটনেস বা মমত্ববোধ ফিরিয়ে আনতে তার মন্ত্রণালয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে বলেও সংসদে জানান তিনি।