জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদ অধিবেশনে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মধ্য দিয়ে এই বাজেট অনুমোদন পায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুর দিন ১ জুলাই থেকে এই বাজেট কার্যকর হবে।
এর আগে সোমবার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে করছাড়ের ৬৪টি সংশোধনীসহ অর্থবিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বশেষ ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের মাধ্যমে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছিল।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেটকে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের মূল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। একই সঙ্গে বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী ‘থ্রিআর কৌশল’ ঘোষণা করেন। এ কৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন’, ‘রিস্টোরেশন’ এবং ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন’—এই তিন ধাপে এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কৌশলটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট বাস্তবায়নের জন্য মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে ২০২৬ সালের নির্দিষ্টকরণ বিল সংসদে উত্থাপন করেন। এতে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়। পরে কণ্ঠভোটে ‘নির্দিষ্টকরণ আইন, ২০২৬’ বিলটি পাস হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ‘অর্থবিল, ২০২৬’ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ পাস করে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করার বিধান উল্লেখযোগ্য।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির আওতায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের যৌক্তিকতা সংসদে উপস্থাপন করেন।
অপরদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দেওয়া ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ করে দেয় জাতীয় সংসদ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও স্বতন্ত্র সদস্যসহ মোট ৪৩ জন সংসদ সদস্য ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করে আলোচনায় অংশ নেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের অনুরোধে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই একযোগে কণ্ঠভোটে অনুমোদন করেন।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। বিলটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে তারা কোনও আপত্তি জানাননি।