যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্কিত সমঝোতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় বাজার। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও কিছু পণ্য আমদানির বিষয়ে সমঝোতা করতে হয়েছে।’
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘‘তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের হিসাব করলে প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। ফলে পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা আয় নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘পোশাকশ্রমিকদের আয় ও ব্যয়ের সঙ্গে বাজারের বহু খাত জড়িত। তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পরিষেবা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’’
১০ লাখের বেশি খাদ্য ব্যবসায়ীর তথ্যভাণ্ডার
নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসায়ীর তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ সফটওয়্যারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘এই তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।’’
ধান-চাল সংগ্রহ ও খাদ্যশস্যের মজুত
তথ্য উপদেষ্টা জানান, গত ৩ মে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ৫ জুলাই পর্যন্ত এ অভিযানে ৩ লাখ ৪ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ধান এবং ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে ৫ জুলাই পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মোট মজুত ছিল ২২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন। যেখানে নিরাপদ খাদ্য মজুতের নির্ধারিত পরিমাণ ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ নির্ধারিত নিরাপদ মজুতের তুলনায় সরকারের কাছে অতিরিক্ত ৯ লাখ ২ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য রয়েছে।
ওএমএসে প্রতিদিন চাল ও আটা বিক্রি
তথ্য উপদেষ্টা জানান, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহে ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন আটা বিক্রি হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, এতে বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা হচ্ছে।