তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরাজিত ও বিধ্বস্ত চেহারা দেখাতে কুণ্ঠিত বোধ করেন বলেই প্রকাশ্যে চেহারা দেখান না। তবে অডিও-বার্তায় তিনি নানা নির্দেশনা ও বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “শেখ হাসিনা চেহারা দেখাতে কুণ্ঠিত বোধ করেন। উনি চেহারা দেখান না। আমি ধারণা করি, পরাজিত ও বিধ্বস্ত চেহারা দেখাতে তিনি চান না। কিন্তু অডিওতে তো অনেক কথা বলেন। মিডিয়াতে প্রচারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে যায়। এটা করো, ওটা করো—নানা কথাবার্তা বলেন। টাকা আছে, টাকা খরচ করেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘টাকা দিয়ে কিছু লোককে ব্যবহার করা সম্ভব হলেও এভাবে দেশে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করা সম্ভব নয়। কিছু চোর-ডাকাত ও বীভৎস লোককে টাকা-পয়সা দিয়ে অনেক কিছু করানো যায়। কিন্তু তারা যে আহ্বান জানিয়েছে, তাতে কী হয়েছে? কিছুই হয়নি, হবেও না। এটা আমি বিশ্বাস করি।’’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের নৈতিক শক্তি নেই। কিছুটা আছে টাকার শক্তি। টাকা খরচ করে কিছু মানুষকে ব্যবহার করা সম্ভব হলেও এভাবে দেশে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করা সম্ভব নয়। সেই সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই।’’
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘‘তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি। কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, আবার কারও কারও সাজাও হয়েছে।’’ তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কোনও ধরনের প্রচারণা বা উসকানি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকার কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।’’








