প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকটি কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। মিথ্যা বা পুরোনো ছবি-ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালানো, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা কিংবা উসকানি দেওয়া গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’ এ বিষয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সজাগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মাহদী আমিন এসব কথা লেখেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, পরীক্ষার্থীরা সরকারে কাছে সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অংশ হিসেবে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সমালোচনা এবং মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঐকমত্য থাকা জরুরি। দেশ, শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বার্থে শিক্ষার্থীবান্ধব সব মানুষের ঐক্যেরও প্রয়োজন রয়েছে।
বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ এবং প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব দিক বিবেচনা করেছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও সার্বিক পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির মূল্যায়ন করে যথাসময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করাও সরকারের দায়বদ্ধতা বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েক দিন ধরে আবহাওয়া অধিদফতর এবং বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেখানে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে সর্বসম্মত মতামত আসে। তবে সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীরও ভোগান্তি কাম্য নয় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনার কথাও জানান তিনি।
পোস্টে আরও বলা হয়, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতে অনুকূল পরিবেশ থাকায় বৃহত্তর স্বার্থে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিলে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা পরীক্ষার সময় বাড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসন নিতে পারবে। দেশের কোথাও কোনও শিক্ষার্থী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তিনি চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়ায় ওই অংশের জন্য সবাইকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্তও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সোমবার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতায় কেবল ওই কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়ে। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত সিদ্ধান্তে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়। প্রশাসনিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করা হয়। একটি কেন্দ্রের এ পরিস্থিতি দুঃখজনক হলেও কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় সব শিক্ষার্থী সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাহদী আমিন লিখেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, এটি যেমন সত্য; তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিয়েছে, এটিও সত্য। কিছু কেন্দ্রে ভোগান্তি হয়েছে, আবার দেশের বড় অংশের শিক্ষার্থী কোনও ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতা বা দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে নিজের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া উচিত। এই পরীক্ষা শুধু একটি সনদ অর্জনের লড়াই নয়, বরং নিজের লক্ষ্য অর্জন এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
পোস্টের শেষাংশে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে আতঙ্কিত না হয় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে, সে পরিবেশ বজায় রাখা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আগামী দিনের পরীক্ষাগুলোতেও শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।