জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ‘দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের জনগণ জুলাইয়ে একটি নতুন সূর্যের উদয় প্রত্যক্ষ করেছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করেই জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।’ তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকালে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার কায়েতপাড়ার শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দিরের মাধব অঙ্গনে আয়োজিত ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে রথমেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এ দেশে কোনও সংখ্যালঘু নেই। বাংলাদেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার সম্মিলিত আত্মত্যাগে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই রাষ্ট্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বিভাজন বা বৈষম্যের স্থান নেই।’
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার কোনও ধরনের বৈষম্য করে না।
নূরুল ইসলাম আরও বলেন, অতীতে সংখ্যালঘু ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হতো। দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটত, যার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হতো। বর্তমানে এ ধরনের অপতৎপরতার কোনও স্থান নেই। বিএনপিতে উগ্রবাদ বা সাম্প্রদায়িকতারও কোনও সুযোগ নেই।
চিফ হুইপ বলেন, ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সৌহার্দ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের আয়োজন দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন এবং সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ।
মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ এবং ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন। শেষে চিফ হুইপ ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রার উদ্বোধন করেন এবং উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।