রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে—এ রকম একটা গুঞ্জন সন্ধ্যা থেকেই আলোচনা হচ্ছে সামাজিকমাধ্যমসহ সব জায়গায়। একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে অনেকে মেনেই নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন। তাহলে প্রশ্ন—আসলে কী কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন? আবার অনেকের মনেই প্রশ্ন—তিনি কি আসলেই পদত্যাগ করছেন নাকি এটি শুধুই গুঞ্জন? কারণ আগেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনও শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।”
এমন পোস্টের পর সেটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকেই প্রশ্ন করতে থাকেন আসলেই কি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন?
এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, এমন কিছু সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির এমন কোনও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কেউ কিছু জানেন না। তবে ওই সূত্রের দাবি, তিনি এমন কিছু কাউকে জানান নাই।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত পর্যন্তও সরকার কিংবা বঙ্গভবনের প্রেস উইং থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত মে মাসে লন্ডন যান রাষ্ট্রপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই প্রথম তিনি বিদেশ সফরে যান চিকিৎসার জন্য। এতদিন তিনি দেশেই ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার হার্টের বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেই সার্জারির ফলোআপ পরীক্ষা করাতেই তিনি গত মে মাসে যুক্তরাজ্যে যান। ১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। এরপর তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। নয় দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি তার সরে যাওয়ার ইচ্ছা আগেও পোষণ করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।” কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।” বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহার করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও বলেছিলেন তিনি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর বঙ্গভবনের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায় রাষ্ট্রপতিকে। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।