সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে যেসব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিন আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক প্রাধান্য পাবেন না। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন-নির্ধারিত অবসরভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ‘অসুস্থতাজনিত কারণ’ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছে। বিকাল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন রাষ্ট্রপতির সই করা পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদে স্পিকারের দফতরে পৌঁছে দেন।

‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’ শীর্ষক পদত্যাগপত্রটি তিনি রাষ্ট্রপতির অফিসিয়াল প্যাডে লেখেন। শুরুতে সবুজ কালির কলমে স্পিকারকে ‘শ্রদ্ধাজনেষু’ বলে সম্বোধন করেন। শেষে তিনি স্বাক্ষর করে তারিখ হিসেবে ২৪.০৭.২০২৬ উল্লেখ করেন।

২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে নির্ধারিত সময় দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হলে সাবেক রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধার বিধান রয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। অর্থাৎ দুই বছরের বেশি সময় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে পদ ছাড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আজীবন অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। মো. সাহাবুদ্দিন যেহেতু ছয় মাসের অনেক বেশি সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই তিনি ২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী আজীবন অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী। এ ছাড়া আইননির্ধারিত অন্যান্য সুবিধাও তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তবে পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি কী ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল, নিরাপত্তা, সরকারি গাড়ি বা এসকর্ট সুবিধা পাবেন, তা সরাসরি অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা-সংক্রান্ত আইনে নির্ধারিত নেই। এসব বিষয়ে প্রযোজ্য সরকারি বিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রটোকল-সংক্রান্ত নির্দেশনা বা সরকারের পৃথক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

সংবিধানের ৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কার্যরত রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় প্রাধান্যের কথা বলা হয়েছে। ফলে পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ওই সাংবিধানিক প্রাধান্য আর পাবেন না।

এদিকে বঙ্গভবনে থাকার বিষয়টি সাবেক রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা বা প্রটোকল-সংক্রান্ত সুবিধার বাইরে আলাদা আইনে নিয়ন্ত্রিত। পদত্যাগের পর তিনি কতদিন বঙ্গভবনে থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে পৃথক আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।