আর কতদিন বঙ্গভবনে থাকতে পারবেন মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার পরও সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে আরও এক মাস থাকতে পারবেন মো. সাহাবুদ্দিন। আইন অনুযায়ী, এ সময় তার কাছ থেকে কোনও ভাড়া বা চার্জ নেওয়া যাবে না।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ‘অসুস্থতাজনিত কারণ’ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিকাল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন রাষ্ট্রপতির সই করা পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদে স্পিকারের দফতরে পৌঁছে দেন। পরে বিকাল ৫টা ১ মিনিটে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’ শীর্ষক পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির অফিসিয়াল প্যাডে লেখা হয়। শুরুতে সবুজ কালির কলমে স্পিকারকে ‘শ্রদ্ধাজনেষু’ বলে সম্বোধন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। শেষে তিনি স্বাক্ষর করে তারিখ হিসেবে ২৪.০৭.২০২৬ উল্লেখ করেন।

১৯৭৫ সালের দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট-এর ৫(৪) ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার সরকারি বাসভবনে এক মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন এবং এ সময় তার ওপর কোনও ভাড়া বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।

আইনের এই বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ বা অন্য কোনওভাবে পদ ছাড়ার পর এক মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে থাকার সুযোগ রয়েছে। ফলে পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিন যদি বঙ্গভবনে অবস্থান করেন, তাহলে ওই এক মাসের জন্য তার কাছ থেকে কোনও ভাড়া বা চার্জ নেওয়া হবে না।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর এক মাসের এই আবাসন-সুবিধা তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তিনি আরও এক মাস রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন।

তবে বঙ্গভবনে থাকার এই সুবিধা সাবেক রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক বা অন্যান্য প্রটোকল-সংক্রান্ত সুবিধা থেকে পৃথক। বঙ্গভবনে কতদিন থাকা যাবে, তা ১৯৭৫ সালের আইনে নির্ধারিত হলেও অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।