কীভাবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে ‘অসুস্থতাজনিত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হবে এবং কীভাবে হবে এই নির্বাচন?

বাংলাদেশ সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন পরিচালিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিজেই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’

রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা

রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন সংসদ সদস্যের জন্য যে যোগ্যতাগুলো প্রয়োজন এবং যেসব অযোগ্যতা থেকে মুক্ত থাকতে হয়, রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীকেও সেসব শর্ত পূরণ করতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রেও আইনেই বলা আছে। ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর। অর্থাৎ সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অযোগ্যতা-সংক্রান্ত শর্তগুলো রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে হলফনামা দাখিল করতে হবে কিনা, এটি আমার জানা নেই।’

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের (১) দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।

একই অনুচ্ছেদের (৪) দফায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি— ৩৫ বছরের কম বয়সী হন; সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন; অথবা সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।

নির্বাচন পদ্ধতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে এ নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এ জন্য জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাচনি কর্তা সভাপতিত্ব করবেন।

সংসদের অধিবেশন চলাকালে নির্বাচন প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। আর সংসদের অধিবেশন না থাকলে ভোটগ্রহণের দিনের অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবক ও একজন সংসদ সদস্যের সমর্থকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর সম্মতিসূচক একটি বিবৃতিও জমা দিতে হবে।

এই নির্বাচনে ভোটার হবেন সংসদ সদস্যরা। নির্বাচন কমিশন এ জন্য একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।

বৈধ একাধিক প্রার্থী থাকলে এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন শেষে একাধিক প্রার্থী বহাল থাকলে সংসদের বৈঠকে নির্ধারিত দিনে দুপুর ১২টার পর ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটগ্রহণ যেমন প্রকাশ্যে হবে, তেমনি ভোট গণনাও প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হবে। সর্বোচ্চ ভোট যদি একাধিক প্রার্থী পেয়ে যান, তাহলে তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার ফল নির্ধারণ করবেন। ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণাই চূড়ান্ত।