আ. লীগের জঙ্গিবাদের প্রশ্নে যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে বলা আওয়ামী লীগের পুরনো একটা চরিত্র। শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশে ১৭ বছর ধরে দমন-পীড়ন করেছেন, তখনও কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় কোনও ঘটনা ঘটলেই এক্সট্রিমিজম টেরোরিজম এই ধরনের একটা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তাদের খুন, গুম এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সে সময় তারা করেছেন, সেগুলো যখন ঢাকার একটা সময় হয়েছে তখন সেগুলো ঢাকার জন্য তারা এক্সট্রিমিজম নিয়ে এসেছেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে এসেছেন। এই জঙ্গিবাদের তত্ত্বটা আওয়ামী লীগের পুরনো নোংরা পলিটিক্স। এটাই তারা এখন বিদেশের মাটিতে বসে আবার নতুন করে করার চেষ্টা করছে। সেটা এখন ভারত এলাও করবে কী করবে না সেটা ভারত সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, এই জঙ্গিবাদের তত্ত্ব আন্তর্জাতিকভাবে জাতীয়ভাবে সব আওয়ামী লীগের সময়ও মানুষ এটা বিশ্বাস করে নাই, আন্তর্জাতিকভাবেও সেটা কেউ বিশ্বাস করে নাই। এখনও এটা বিশ্বাসের প্রশ্ন উঠে না। বাংলাদেশে এখন জনগণের সমর্থিত জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকার আছে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি বিরোধী দল আছে। এখানে কোনোভাবে জঙ্গিবাদের প্রশ্নই উঠে না। এটা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক মহলে এটেনশন পাওয়ার জন্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন যখন আওয়ামী লীগের মুখে গণতন্ত্র বের হয় আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার শুনতে হয়, তখন এটা হাস্যকর একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যখন চৌধুরী আলমকে গুম করেছিল, যখন ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিল, যখন সুমনকে গুম করেছিল এবং তাদের মতো বহু লোককে গুম করেছিল তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল। হেলিকপ্টার দিয়ে ছোট ছোট শিশুদের গুলি করে হত্যা করেছিল, জুলাই অগস্ট মাসে তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল। সুতরাং এগুলো তো হাস্যকর ব্যাপার, এগুলো আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ইউনাইটেড আছে। কোনোভাবেই এখানে যে ফ্যাসিবাদ চলেছে গত ১৭-১৮ বছর সেই ফ্যাসিবাদ আবার ফেরত আসুক আবার এখানে ফ্যাসিবাদ উত্থান হোক সেটা বাংলাদেশের জনগণ চায় না।

তিনি বলেন, আপনারা আমাদের বিবৃতি দেখেছেন। বিবৃতিতে ডিপ্লোমেটিক ভাষায় যতটুক একটি দেশকে বোঝানো যায় সেটা আমরা বলেছি, চেষ্টা করেছি। এর আগে আমরা কিন্তু বারবার বলেছি, ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তারা কী রকম চায়। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে এ ধরনের কথা বলে এবং ভারত সরকার সেটা এলাও করে তখন অবশ্যই বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয় যে, ভবিষ্যতে আমাদের সম্পর্কটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।