সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে শেখ হাসিনা বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে সেখানে তার প্রয়োজনীয় সব অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা সবাই মেনে নেবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘হাসিনা যদি বাংলাদেশে আসেন, উনি তো বলছেন ডিসেম্বরে আসবেন। আমি বহুবার বলেছি, তিনি যদি আসেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তিনি আসবেন। পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন। পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় যা যা করা দরকার, তা করা হবে। তারপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আমরা সবাই মেনে নেব।’
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে তো প্রত্যর্পণ করার কথা ছিল। তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার কথা ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি আছে। আমরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ফেরত চাই। আমরা তাকে দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে চাই।’
ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সহযোগিতা করছে না, উল্টো সেই দেশে তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বিভিন্ন বৈঠক করছেন এবং সম্প্রতি সেখানে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে ভারতকে আন্তরিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘যাকে আমরা এনে বিচার করতে চাই, সেটা না করে তিনি ওখানে বসে এটা করছেন—এই ব্যাপারগুলোকে ভারতের আন্তরিকভাবে নিতে হবে যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কীরকম হবে, কীভাবে হবে।’
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অবস্থান। ‘আমরা হাসিনার মতো একটা মাফিয়া রেজিম এই দেশে আর দেখতে চাই না। এটা না ভবিষ্যতেও হতে দেব না। কোনো ফ্যাসিস্ট-মাফিয়া রেজিম না, এটা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’
তিনি বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বিভৎস অপরাধীটাও তার নাগরিক অধিকার, যা যা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার, যা যা পাওয়ার সেটা সাকিব আল হাসান হোক, সেটা হাসিনা হোক—তারা পাবেন।’