বিনা খরচে জাপানে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, নতুন নতুন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানি ভাষা শেখানো এবং বিনা খরচে জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং জাপানের প্রতিষ্ঠান টাউন লাইফ জাপান লিমিটেডের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়া।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে জাপানের সঙ্গে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানি ভাষা শিক্ষার কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশে এসে ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া জাপানি শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তাদের ভিসা প্রক্রিয়া ও আবাসনসংক্রান্ত জটিলতা সহজ করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল ও আর্কিটেকচার বিষয়ে ডিপ্লোমা সনদধারীদের কর্মসংস্থান ভিসায় জাপানে পাঠানো হবে। প্রার্থীদের ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে জাপানে প্রবেশ পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করবে টাউন লাইফ জাপান লিমিটেড।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ল্যাব উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সরবরাহেও সহায়তা করবে। নির্বাচিত প্রকৌশলীরা জাপানে গিয়ে মাসিক বেতনের পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার ভাতা ও বোনাস সুবিধা পাবেন।

সভায় জানানো হয়, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শিক্ষাক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষাক্রম চলছে। ভাষা পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে জাপানে কাজের সুযোগ পাবেন।

প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের চাকরি নিশ্চিত হয়েছে এবং তারা আগামী অক্টোবরের মধ্যে জাপানে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেওয়া শুরু করবেন। অন্য নির্বাচিতরা আগামী জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে জাপানে প্রবেশ করবেন বলে সভায় জানানো হয়।

মাহ্‌দী আমিন আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি শুরু হয়েছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন শ্রমবাজার তৈরির মাধ্যমে সেই সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করতে সরকার কাজ করছে।

সভায় টাউন লাইফ জাপান লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোমিজাওয়া কাজুনোরি, শাখা ব্যবস্থাপক ওকাদা ইয়োহেইসহ মন্ত্রণালয় ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।