সারের বাজারে সিন্ডিকেট, বেশি দামে কৃষককে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ

সারের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, বিতরণব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা ও সরকারের তদারকির ঘাটতির অভিযোগ তুলে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংসদের বৈঠকে কৃষিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশে এ দাবি জানান সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

নোটিশে বলা হয়, দেশে সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সারের মজুত থাকার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ডিলার ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, সরকারের নির্ধারিত ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি এবং ১ হাজার ৩৫০ টাকার ইউরিয়া সার কৃষকদের ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দাম নেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা কৃষকদের পাকা রসিদ দিচ্ছেন না।

স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সারের বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন। উত্তরাঞ্চলের কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় চলতি ভরা মৌসুমে কৃষকেরা ডিলারদের কাছে ঘুরেও ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে তারা ঋণগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের দাম ও সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়।

সিন্ডিকেট ভেঙে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

সারের সংকট নিরসনে অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে। একইসঙ্গে অনিয়মে জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছাতে ডিজিটাল কার্ডভিত্তিক বিতরণব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

সারের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ, বিতরণব্যবস্থার অনিয়ম দূর করা এবং কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার কী ধরনের দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে—তা সংসদে কৃষিমন্ত্রীর কাছে জানানো প্রয়োজন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।