‘হামের টিকা না কেনা’ অর্থ অন্তর্বর্তী সরকার কোন খাতে ব্যয় করেছে, সংসদে প্রশ্ন

গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৯ মাসে হামের টিকা সংগ্রহ না করায় দেশের অনেক শিশু মারা গেছে, অথচ ২০২৪-২৪ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের সব টাকা ব্যয় করা হয়েছে। হামের টিকার এই অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে জানতে চেয়েছেন তিনি।   

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর কাছে তিনি এ কথা জানতে চান।  

গোপালগঞ্জের এই সংসদ সদস্য বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সঠিক সময়ে হামের টিকা সংগ্রহ না হওয়া এবং পরে দেশজুড়ে টিকা সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নীতি পরিবর্তন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করা।

তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৯ মাসে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সঠিক সময়ে হামের টিকা সংগ্রহ না করায় টিকার অভাবে দেশে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অথচ অন্তবর্তীকালীন সরকার ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থ-বছরের বাজেট বরাদ্দের অধিকাংশ অর্থই ব্যয় করেছে। ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বাজেট বরাদ্দ কত টাকা ছিল; বরাদ্দকৃত অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে?

জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ বিগত দুটি অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে এবং স্বাস্থ্যসেবা বজায় রাখতে মোট ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জাতীয় উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই অর্থবছরে বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থ মূলত দুটি প্রধান খাতে ব্যয় করা হয়েছে।

১. পরিচালন খাত: চিকিৎসাকেন্দ্র ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ। চিকিৎসা অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক খরচ।

২. উন্নয়ন খাত: নতুন হাসপাতাল ভবন ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সংগ্রহ। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর মাধ্যমে শিশুদের হাম, রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক টিকার সংগ্রহ ও দেশব্যাপী বিতরণ। স্বাস্থ্য খাতের জনবলকে দক্ষ করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা।