বাংলাদেশে বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধ এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় সামাজিক মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ (সিএনবি) ক্যাম্পেইন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এবং নরওয়েজিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এনআরকে টেলিথন) অর্থায়নে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, শিশুদের যেন শৈশব থেকে বঞ্চিত হতে না হয়। বিশেষ করে মেয়ে শিশুরা যেন পারিবারিক চাপ কিংবা সামাজিক প্রলোভনের কারণে বাল্যবিয়ের শিকার না হয়।
তিনি বলেন, ‘অনেক পরিবার হয়তো মনে করে যে বাল্যবিয়ের মাধ্যমে একটা সমস্যার সমাধান হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এটা অনেক বড় সমস্যার জন্ম দিচ্ছে।’
বাল্যবিবাহ রোধে এর কারণগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহ্দী আমিন বলেন, কোন এলাকায় কী কারণে বাল্যবিয়ে বাড়ছে, তা নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করছে। অনেকেই না বুঝেই বাল্যবিয়ের মাধ্যমে অপরাধ করছে। পরিবারের কাছে হয়তো মনে হচ্ছে তারা একটি শুভ কাজ করছেন, কিন্তু এর মাধ্যমে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন বাল্যবিয়ে রোধে শিক্ষা, সচেতনতা ও গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘বাল্যবিয়ে মেয়েদের শিক্ষার পথ রুদ্ধ করে, তাদের সম্ভাবনা সীমিত করে এবং দারিদ্র্যের চক্রকে দীর্ঘায়িত করে।’
মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনমত গঠন, সামাজিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ ক্যাম্পেইন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সাউথ-ইস্ট এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর মো. আল মামুন।
তিনি বলেন, শুধু আইন দিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এবং সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে একটি বিয়ে বন্ধ করা গেলেও পরে মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। ফলে শুধু একটি ঘটনা ঠেকানো নয়, সমস্যার মূল কারণগুলো মোকাবিলা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) নীলিমা ইয়াসমিন কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বাল্যবিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করার নানা তথ্য তুলে ধরেন।
এতে সরকারের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সিনিয়র সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অংশ নেন। বাল্যবিয়ে নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক তাদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে নির্মিত জনসচেতনতামূলক বার্তা, গান, পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট (পিএসএ) এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক কনটেন্ট প্রদর্শন করা হয়। একটি গানে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় বাউল সংগীতশিল্পী আলেয়া বেগম ও র্যাপার আলী হাসান।