সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো প্রসঙ্গে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

সরকারি কর্মচারীদের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শুধু লিখিত পরীক্ষার ফল দিয়ে একজন প্রার্থীর চাকরির উপযোগিতা পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে ভাইভায় নম্বর বেশি থাকলে পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে। এ আশঙ্কার সঙ্গেও তিনি দ্বিমত করেন না বলে জানান। 

সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০। নতুন প্রস্তাবে ১১ থেকে ১২তম গ্রেডে ৫০, ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ২৫ নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছে।

এতে লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে ভাইভার মাধ্যমে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “চাকরির জন্য কেবল বইভিত্তিক জ্ঞান নয়, আরও কিছু দক্ষতা ও ‘অ্যাপটিটিউড’ প্রয়োজন হয়, যা মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা সম্ভব।” 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিভিন্ন নিয়োগের ভাইভা বোর্ডে থেকে এমন প্রার্থীকেও তিনি দেখেছেন, যাদের লিখিত পরীক্ষার ফল না জেনেও সাক্ষাৎকারের পারফরম্যান্স দেখে চাকরির জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছে।” তবে ভাইভা যেহেতু তুলনামূলকভাবে ‘সাবজেক্টিভ’, সেখানে পছন্দের কাউকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এ বক্তব্যের সঙ্গেও তিনি দ্বিমত করেননি। 

তিনি বলেন, “সরকার মনে করেছে পরিবর্তীত নম্বর ব্যবস্থায় আরও ভালো নিয়োগ সম্ভব হবে এবং আইনগতভাবেও এটি করার সুযোগ রয়েছে।” নিয়োগের পর কোনও সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় একজন প্রার্থী পৃথকভাবে কত নম্বর পেয়েছেন, তা প্রকাশের বিধান রাখা যায় কিনা, এ প্রস্তাবের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।