শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহে নতুন টার্মিনালের পরিকল্পনা

আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্প খাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-১৭-এর সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বেলা সাড়ে ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আকস্মিক বা সাময়িক সংকটকালীন সময়ে শিল্পখাত যাতে গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয়, সেজন্য সরকার নিম্নরূপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

তিনি জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হবে।

সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এতে বিড দাখিলের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, সে জন্য মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে সুবিধাজনক কোনো স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী গ্রাহক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়েও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।