রেলসেবাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর প্রথম চালানে ১৯টি ক্যারেজ চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আরও ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ সংগ্রহের জন্য ডিপিপি প্রনয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ৬০টি মিটারগেজ ও ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম চলছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী আসনের সংসদ সদস্য শামছুন্নাহার বেগমের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
রেলপথ মন্ত্রী জানান, যাত্রী চাহিদার তুলনায় আসন সংকট থাকায় আন্তঃনগর ট্রেনের নন-এসি কোচের মোট আসনের ২৫ শতাংশ আসনবিহীন বা স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করেও অনেক সময় যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী আসন সংকুলান করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে অনেক যাত্রী ট্রেনে উঠে পড়েন। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নন-এসি কোচের মোট আসনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আসনবিহীন টিকিট দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত স্ট্যান্ডিং যাত্রীর কারণে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দীর্ঘ যাত্রায় ভোগান্তি কমাতে ট্রেন ও কোচের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, অধিক যাত্রী চলাচলের রুটে কোচ ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো এবং ঈদ, পূজা ও বিভিন্ন সরকারি ছুটিতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বিশেষ ট্রেন চালু করা গেলে পর্যায়ক্রমে স্ট্যান্ডিং টিকিটের হার কমানো বা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। এর প্রথম চালানে ১৯টি ক্যারেজ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পাওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ সংগ্রহের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের বিড ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে আরও ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) অর্থায়নে ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য পিডিপিপি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব রোলিংস্টক সংগ্রহ করা হলে অধিক সংখ্যক ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে। এর ফলে রেলসেবার সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য সেবা আরও আধুনিক, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।