‘বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন বলে লোকবল নেই, পুলিশ বলে স্পিডবোট নেই’

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে প্রশাসন লোকবল সংকটের কথা বলছে, আর নৌ পুলিশ বলছে প্রয়োজনীয় স্পিডবোট নেই। এমন পরিস্থিতির কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে শুধু ভূমি মন্ত্রণালয় নয়, স্বরাষ্ট্র ও নৌ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।

তার প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে পরিদর্শন করানো হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।

নাদিয়া পাঠান পাপন তার নোটিশে বলেন, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র আইন ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। কোথাও অনুমোদিত এলাকার বাইরে, আবার কোথাও পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বিবেচনা না করে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এতে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে, নদীভাঙন বাড়ছে এবং নদীতীরবর্তী মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ছে।

নোটিশে নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, “বালু কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জনগণের সম্পদ। এই সম্পদ লুটপাটের অধিকার কারও নেই। নদী রক্ষা করা মানে শুধু পানি ও পরিবেশ রক্ষা করা নয়, মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

সম্পূরক প্রশ্নে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমি যখন প্রশাসনকে বলি, তিনি বলেন লোকবলের অভাব। আমি যখন নৌ পুলিশের সঙ্গে বসেছি, নৌ পুলিশ বলে যে তাদের ওদের গ্রেফতার করার জন্য স্পিডবোট—সেটাও নাকি যারা বালু উত্তোলন করে, বালু ইজারাদার যারা, এই স্পিডবোটও তাদের।”

তিনি বলেন, “আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমি তাদেরটা ভাড়া নিয়ে যাওয়ার আগে তারা পালিয়ে যায়। আমার মাননীয় ভূমিমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, এখানে আসলে আমরা যদি শুধু ভূমির কথা বলি হবে না। এখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌ মন্ত্রণালয়; সবগুলো রিলেটেড।”

ইজারা না দেওয়া এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য কী ধরনের শাস্তি এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—তাও জানতে চান তিনি।

জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান বলেন, “আমি আশা করছি যে খুব দ্রুত, আমি মনে হয় যে তিন দিনের মধ্যে উপযুক্ত স্থানে আমাদের মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা আমি এখানে পরিদর্শন করাবো এবং এই ঘটনায় যারা জড়িত, সে যে প্রশাসনের যে জায়গায় হোক, তার উপযুক্ত ব্যবস্থা আমরা নেবো। এবং নদী, বালু রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।”