সার নিয়ে ‘অযথা সমালোচনা না করে’ সঠিক পরামর্শ দিতে বললেন টুকু

সার নিয়ে অযথা সমালোচনা না করে সরকারকে সঠিক পরামর্শ দিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সরকারের সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনও অভিযোগ বা অনিয়ম থাকলে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিমকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সার নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আমাদের স্লোগান আছে—কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এই সেন্টিমেন্টকে ধারণ করে আমরা পথ চলি। কাজেই বর্তমান এই সার নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, সেই সম্পর্কে আমি কিছু কথা বলতে চাই।’

তিনি বলেন, বর্তমানে রোপা আমন ধান সর্বোচ্চ কুশি পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যায়ে সারের খুব একটা প্রয়োজন নেই। সামনে রবি মৌসুম। ওই মৌসুমের জন্য অনেকে সার সংগ্রহ করছেন।

সার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে টুকু বলেন, ‘আমরা এই ম্যানেজমেন্টকে কীভাবে ভালো করা যায়, ইতিমধ্যেই আমাদের পক্ষ থেকে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। ৬৪টি জেলায় ৬৪টি মনিটরিং সেল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে দুইজন যুগ্ম সচিব ও দুইজন উপসচিবের তত্ত্বাবধানে এই মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যখনই কোথাও কোনও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেই অনুযায়ী আমরা পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে আগাম দুর্নীতির অভিযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনার আবেদনের তারিখই শেষ হয় নাই। আবেদন হোক। দুর্নীতি কোথায় পান? আবেদন জমা দেন, কে পেলো, না পেলো, তারপরে বলেন।’

টুকু বলেন, ‘এই পবিত্র সংসদে সঠিক তথ্য, বাস্তবভিত্তিক কথা বললে সবাই উপকৃত হবে, দেশবাসী উপকৃত হবে।’

সার নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ২০ থেকে ২২টি জেলার সমস্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিলে প্রকৃত পরিস্থিতি জানা যাবে। ‘সাবোটাজ না করে জনগণের পক্ষে কীভাবে কাজ করা যায়, সেই অনুযায়ী চলেন। জনগণই এর জবাব দিবে, ইনশাল্লাহ’—বলেন তিনি।

সার মজুদের বিষয়ে টুকু বলেন, ‘আমাদের চাহিদা ৩৫ দশমিক ৮৭ লাখ মেট্রিক টন। আমাদের যোগান আছে ৫১ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন। আর এই ক্ষেত্রে আমাদের সারপ্লাস থাকবে ১৫ দশমিক ৮৪ লাখ মেট্রিক টন। সারপ্লাস থাকবে, ইনশাল্লাহ।’

কৃষক কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কৃষককে সম্মানিত করার জন্যই এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকের জমির পরিমাণ অনুযায়ী কতটুকু সার প্রয়োগ করতে হবে, তা নির্ধারণ করা যাবে। এতে সারের অপচয় কমবে এবং ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

নতুন ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৮ হাজার ডিলার নিয়োগ হবে। এরাও আবার দুইজন করে ডিলার নিয়োগ দিতে পারবে। তাহলে ১৬ হাজার ডিলার নিয়োগ হবে। এর আগেও যারা বিদ্যমান আছে, প্রায় ৩১ হাজারের উপরে।’

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে টুকু বলেন, ‘কোনও অভিযোগ থাকলে, কোনও অনিয়ম থাকলে অবশ্যই আমাদের মন্ত্রণালয় যে টিম করা হয়েছে, সেই অভিযোগটি দিবেন। যথার্থভাবে ব্যবস্থা নেবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি কথাই বলে শেষ করবো—কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’