আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের যে ধাপ ও তারিখ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি), তা চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় সভার পর বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পৃথকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ কথা বলেন।
এর আগে সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দুই দিনের বৈঠক শেষে ইউপি নির্বাচনের ধাপ ও তারিখ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে ভোটগ্রহণের কথা জানানো হয়।
তবে মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে ইসির ঘোষিত তারিখের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার এ বিষয়ে কিছু জানে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে ইসির কোনও চিঠি বা অন্য কোনও মাধ্যমে যোগাযোগ বা আলোচনা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতি সভা বা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভার পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কেন ইসি ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ঘোষিত এই তারিখ চূড়ান্ত নয়। আমরা তো বলেছি, যে তারিখ বলা হচ্ছে, তা প্রাথমিক তারিখ। আগামী ১৭ তারিখ আন্তমন্ত্রণালয় সভা রয়েছে। ওই সভায় তারিখ নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে বিভিন্ন পক্ষের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী কমিশন সভায় এটি চূড়ান্ত হবে।’
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও একই কথা বলেন। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে—এটি নিশ্চিত। তবে কবে, কী পদ্ধতিতে ও কোন ধাপে হবে, তা নিয়ে গত দুই দিন কমিশনে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক আলোচনা শেষে একটি তারিখ ও ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পুরোপুরি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হবে। ওই বৈঠক থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করবে।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘১৭ তারিখের মিটিংয়ের পরে এটা কেন করা হলো না—এমন প্রশ্ন আসতে পারে। মিটিংয়ের জন্য তো কিছু উপাত্ত দিতে হবে। সেই উপাত্তই গতকাল দেওয়া হয়েছে। এখন এই উপাত্তের ভিত্তিতে অংশীজনরা তাদের মতামত দিতে পারবেন। কমিশন সেটির ভিত্তিতে তারিখ চূড়ান্ত করতে পারবে।’
সরকারের সঙ্গে ইসির আলোচনা না করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘মন্ত্রী কী বলেছেন, তা নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই। উনি উনার কথা বলেছেন। আর আলোচনা হলে সচিবের সঙ্গে হবে। এটা সচিবই বলতে পারবেন, আলোচনা হয়েছে কি না।’
একই বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, সে মন্তব্যের বিপরীতে কোনও মতামত দেওয়ার ধৃষ্টতা আমি দেখাবো না। উনি যেটা বলেছেন, সেটাই শিরোধার্য। তবে আলোচনা তো একটি চলমান প্রক্রিয়া। এখন কোন তারিখে, কোন চিঠিতে কী আলোচনা হয়েছে বা কার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে, কার সঙ্গে হয়নি—এ বিষয়ে কোনও বাড়তি মন্তব্য করতে চাই না।’