আল্লাহর মেহমানদের ওপর হামলা সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় হতাহতের ঘটনায় শোক, উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। রবিবার (১১ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আল্লাহর মেহমানদের ওপর হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

ধর্মমন্ত্রী হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে বাংলাদেশ সরকার রয়েছে। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলায় ভুক্তভোগী ওমরা কাফেলার জিম্মাদার মোহাম্মদ আলী কাশেমীর সঙ্গে কথা বলেছেন ধর্মমন্ত্রী। এ সময় তিনি আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা, সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। গতকাল রাতেও তিনি ওমরাযাত্রীদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগের স্থান। এ দেশেই অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ এবং মদিনা মুনাওয়ারায় রয়েছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ওপর যেকোনও হামলা মুসলিম বিশ্ব কখনোই মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। বাংলাদেশও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ভূমিতে আগত আল্লাহর মেহমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরীহ মানুষ ও ওমরাযাত্রীদের জীবন বিপন্ন করে এমন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলোকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক ও ওমরাযাত্রীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আবাসন এবং নির্বিঘ্নে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির শিকার না হন এবং সবাই নিরাপদে ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানরত অন্য বাংলাদেশি নাগরিক ও ওমরাযাত্রীদের সার্বিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ওমরাযাত্রীদের চিকিৎসা সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় সৌদি আরব সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেকোনও প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের পাশে থাকবে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।