মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ১২ দেশে কর্মী যেতে ছাড়পত্র বন্ধ

ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার ১২টি দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি বা অনুমোদন ছাড়া এসব দেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের অনুকূলে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান-৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গাজী মো. শাহেদ আনোয়ারের সই করা চিঠিটি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা ১২টি দেশ হলো—সার্বিয়া, মলদোভা, বেলারুশ, কঙ্গো, রাশিয়া, জাপান, ইরাক, লাওস, ভিয়েতনাম, ক্রোয়েশিয়া, ইউক্রেন ও লিবিয়া।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব দেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের অনুকূলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি বা অনুমোদন ছাড়া বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

চিঠিতে ১২টি দেশে ছাড়পত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতারণা রোধ এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া, ইউক্রেন, লিবিয়া, ইরাক ও কঙ্গো যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে বাংলাদেশি কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ার একাধিক অভিযোগ এসেছে। একইভাবে লিবিয়া, ইরাক ও কঙ্গোতে দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মানব পাচারের ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে, সার্বিয়া, মলদোভা, বেলারুশ, ক্রোয়েশিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামকে ব্যবহার করে দালাল চক্র ইউরোপে মানব পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সার্বিয়া, বেলারুশ ও ক্রোয়েশিয়ায় কাজের অনুমতির কথা বলে কর্মীদের নিয়ে গিয়ে সীমান্ত পার করে অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া, বেতন না দেওয়া এবং বৈধ কাগজপত্র কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

জাপানের ক্ষেত্রে অভিযোগ ভিন্ন। দেশটিতে পর্যটক বা টিআইটিপি (টেকনিক্যাল ইন্টার্ন) ভিসায় গিয়ে কর্মীদের নিখোঁজ হওয়া এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকার এই রুটটিও নজরদারির আওতায় আনতে চায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ১২টি দেশে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে কর্মী পাঠাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই বিএমইটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।