সোমবার শুরু হচ্ছে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন সোমবার (৯ নভেম্বর) শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশন আগামী ১৮ নভেম্বর শেষ হবে। প্রথম দিন বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। এরপর সরকারি ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে সংসদের বৈঠক বসবে। অধিবেশনের প্রথম দিন তিনটি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপনের জন্য অনুমতি চাইবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যক্রম নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ কমিটির সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেন।

সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-১ থেকে প্রকাশিত সোমবারের কার্যসূচি অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন ও শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। এছাড়া বিধি-৭১-এর আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ নিষ্পত্তি করা হবে।

বৈঠকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী তিনটি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন। এগুলো হলো— পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬।

এদিকে বগুড়া ও এর সন্নিহিত এলাকায় পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, দুর্যোগসহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চাইবেন। অনুমতি পেলে তিনি সংসদে বিলটি উত্থাপন করবেন এবং পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করবেন।

এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ১৭৪টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৩ হাজার ৫৭৭টি প্রশ্নসহ মোট ৩ হাজার ৭৫১টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া বিধি-৭১-এ মনোযোগ আকর্ষণের ৯২টি এবং বিধি-১৩১-এ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ২৮১টি নোটিশ পাওয়া গেছে।

অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ চত্বরকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণার প্রস্তাব করেন। কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন।

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলে সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় গণপূর্ত অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে সাউন্ড সিস্টেম উদ্বোধন করা হবে।

সংসদ ভবনে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহ্বায়ক ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবনে প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। অন্য সময়ে চাহিদা আরও কম থাকে। ফলে প্রয়োজন মেটানোর পর অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংরক্ষণাগারের সুবিধা রেখেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার জাতীয় সংসদে ই-পার্লামেন্ট চালু এবং শূন্য পদে জনবল নিয়োগের সর্বশেষ অগ্রগতি কমিটিকে অবহিত করেন।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।