বুধবার বেলা ১টায় এজলাসে আসেন বিচারকরা। এসময় বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘বিচারপ্রার্থী ও সকলের বোঝার সুবিধার্থে রায়টি বাংলায় দেওয়া হচ্ছে। রায়টি লিখেছেন সহকর্মী বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। তার দেওয়া রায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে নিজস্ব কিছু বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ প্রদান করছি।’
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ওই হত্যাকাণ্ডকে ‘একটি জঘন্য ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে বলা যায়, নুরুল ইসলাম সরকার ও নুরুল ইসলাম দিপু গং এই মাস কিলিংয়ের জন্য সরাসরি দায়ী।’ রায়ে উল্লেখ আছে, ‘তারা এতটাই বেপরোয়া ছিলেন এবং ভেবেছিলেন যে, তাদের চেহারা অনাবৃত থাকার কারণে কেউ যদি তাদের চিনেও ফেলে, তবু তাদের কিছু হবে না। তাদের এ ধরনের ভাবনার কারণ হলো তাদের পেছনে এমন একটি শক্তি রয়েছে, যে বা যারা তাদের সম্ভাব্য সব ঝামলা থেকে রক্ষা করার শক্তি রাখে।’
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, বিচারিক আদালতের নথি ও সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হাই কোর্ট রায়ে বলেছেন, ‘ঘটনা থেকে দেখা যায়, নুরুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে তখনকার সময়ের সদ্য ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দলআওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন এবং আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহফুজুর রহমান মহলের সঙ্গে যতটুকু না ছিল রাজনৈতিক বৈরিতা তার চেয়েও বেশি ছিল অর্থনৈতিক সংঘাত।’
‘নুরুল ইসলাম সরকার স্থায়ীভাবে একজন ব্যবসায়ী, মাহফুজুর রহমান মহলও একজন ব্যবসায়ী। উভয়ের মধ্যে স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রতিযোগিতা চলছিল। মহলের রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগক্ষমতাচ্যুত হলেও যেহেতু তিনি নুরুল ইসলাম সরকারের বিচ্ছিন্ন মাদক ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করেছিলেন, সেহেতু নুরুল ইসলাম সরকার ও সঙ্গীগণ মহলকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।’
সেই পরিকল্পনার কথা আসামি মাহবুবুর রহমানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসেছে এবং দুজন সাক্ষী তা সমর্থন করেছেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘ঘটনার দিন এই দু’জনকে নুরুল ইসলাম সরকারের গাড়িতে করে বয়ে নিয়ে আসা এবং সেখান থেকে তার দ্বারা উৎসাহিত হয়ে সভাস্থলে গিয়ে দিপু ও শিপু কর্তৃক আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি করার ঘটনাসন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে মাহফুজুর রহমান মহলকে হত্যার ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি তারা আসাহান উল্লাহ মাস্টার এমপিকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তাকে হত্যা করার মধ্য দিয়েই।’
আরও পড়তে পারেন: কাঙ্ক্ষিত রায়ে অন্যরকম আদালতপাড়া
/ইউআই/এমএনএইচ/