ভারতের বিতর্কিত ধর্মীয় প্রচারক এই জাকির নায়েকের কথা খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতাদের কাছ থেকে জেনেছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াগড় ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া জেএমবি-র তাত্ত্বিক অংশ অর্থাৎ যাদের সঙ্গে নাশকতার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ না থাকলেও লোকজনকে উস্কানি দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তারা জাকির নায়েককে মনে মনে নিজেদের গুরু মেনে চলতেন। তবে তাদের সঙ্গে জাকিরের সরাসরি যোগাযোগ ছিল কিনা, গোয়েন্দারা তখন সেটা তেমনভাবে খতিয়ে দেখেননি। জেএমবি-র কেউ কেউ তখন অবশ্য নিজেদের সরাসরি জাকির নায়েকের ভক্ত বলে গোয়েন্দাদের কাছে জানিয়েছিলেন।
গুলশান ও কিশোরগঞ্জে জঙ্গি হামলার পর জাকির নায়েকের নাম নিয়ে যখন আলোড়ন তার কিছু দিনের মধ্যেই জাকির নায়েক জানিয়ে দেন, কোনও সন্ত্রাসী যদি তার ভক্ত হয়, তবে সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।
এনআইএ-’র দাবি, জাকির নায়েকের বক্তৃতা জেএমবি-র অন্য সদস্যদের শুনতে ও তার পথ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছিল সাজিদ ওরফে শেখ রহমতুল্লা। নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনগঞ্জের ফরাজিকান্দা গ্রামের শেখ রহমতুল্লাকে জেএমবির বর্ধমান মডিউল বা গোষ্ঠীপ্রধান বলে তদন্তের নথিতে অভিহিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নাগরিক রহমতুল্লাকে ২০১৪ সালের ৮ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দাদের মতে, রহমতুল্লা জেএমবির শীর্ষস্থানীয় তাত্ত্বিক নেতা।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, বীরভূম ও নদিয়ায় জাকির নায়েকের বক্তৃতার ভিডিওটেপ গোপনে দেখানো হয়েছিল। এ কথা জেএমবির গ্রেফতার নেতাদের একাংশ গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে সেই সব ভিডিওটেপ গোয়েন্দাদের হাতে এখনও পর্যন্ত পৌঁছায়নি।
এনআইএ-’র এক শীর্ষ কর্মকর্তার কথায়, খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই আমরা জাকির নায়েকের নাম জেনেছিলাম। তবে সন্ত্রাসীদের মধ্যে ওই ধর্মীয় প্রচারকের যে এতটা প্রভাব, সেটা বুঝতে পারিনি। সেটা গোড়ায় বুঝলে তখনই জাকির নায়েক সম্পর্কে আমরা আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিতাম। হয়ত মামলাও রুজু করা হতো তার বিরুদ্ধে।
/এবি/