‘একমাত্র নেত্রী ছাড়া আমাদের কেউ দেখে না। আর ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। তিনি এখন নেই। আর নেত্রীর একার পক্ষে কতটুকুই-বা সম্ভব!…সবাই মিলে যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতো, তাহলে আমরা আবার স্বপ্ন দেখতে পারতাম’,কথাগুলো মো. নাজিমুদ্দীনের। তিনি ‘২১ আগস্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক।
নাজিমুদ্দীন ওরফে নাজমুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১২ বছর কেটে গেল। সময় বড় দ্রুত যায়। কিন্তু কীভাবে যে যায়, আমাদের এই সময় যে কীভাবে যাচ্ছে, সেটা কেবল আমরাই জানি! কেবলমাত্র মারা যাওয়া ছাড়া আহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহত ছিলাম আমি। শরীরে অসংখ্য, অগুণতি স্প্লিন্টার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি! অতি কষ্টে জীবনযাপন করতেছি।’
নাজমুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তখন আমি ভৈরব জেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। মাঝে মাঝে ঢাকায় আসি। আওয়ামী লীগের কোনও জনসভা কখনও মিস করিনি। নেত্রী এত বড় জনসভায় ভাষণ দেবেন, সেখানে আমি থাকবো না এটা হতে পারেনা।এটা মনে করেই ঢাকায় চলে এলাম।’
নাজমুল বলেন, ‘অস্থায়ী মঞ্চের যে ট্রাক ছিল, সেই ট্রাক ধরে ছিলাম আমি। নেত্রী জয় বাংলা বললেন,আর সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল। তারপর ভারতে তিনমাস কাটলো চিকিৎসায়। বাংলাদেশে আসার পর আরও চারটি মেজর অপারেশন হলো। তবুও সব ঠিক হলো না। আমার চোখেও স্প্লিন্টার ছিল।’ তিনি বলেন, এখনও প্রতিটি ক্ষণে অসহ্য ব্যথা টের পাই। কয়েকদিন পর আরও দুটি অপারেশন করা হবে। এত টাকা কোথায় পাবো সে চিন্তাও করতে হয়। কারণ আগে ব্যবসা করলেও অসুস্থ শরীর নিয়ে আর কিছু করতে পারি না। থাকি ঢাকাতেই ভাইয়ের বাসায়।
গ্রেনেড হামলায় আহত হওয়ার পর ২০১৫ সালে দল থেকে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে নাজমুল বলেন, সব টাকা তো চিকিৎসাতেই যায়। এই টাকার চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়েছে চিকিৎসায়।ওষুধে প্রচুর খরচ হয় প্রতিমাসে, বলেন নাজমুল।
নাজমুল বলেন, ২০০৭ সালে নেত্রী যখন জেলখানায় তখন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ২১ আগস্টে আহত-নিহতদের পরিবারকে এক সুঁতোয় বাঁধার জন্য এই সংগঠনটি (২১ আগস্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি) গঠন করেন। সংগঠনের সভাপতি করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে মনোনীত করা হয়। সেই থেকে আমরা আমাদের পাশে থাকছি। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। কারণ,আমাদের যন্ত্রণা অন্যরা বুঝবেন না।
নাজমুল জাতির কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘২১ আগস্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি’র পক্ষ থেকে এখন শুধু একটাই দাবি, আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা আর আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। আর চাই,এ হামলার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা। বিচার না দেখে মরতে চাই না! যারা আমাদের জীবন থাকতেও মেরে ফেলেছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেখে যেতে পারলেই কেবল শান্তি পাবো!
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৩০০ জন আহত হন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ জুড়ে নিহত ও আহতদের ছিন্নভিন্ন হাত,পা,আঙুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে। আহতদের চিৎকারে তখন এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন ও পরে হাসপাতালে মারা যান আরও ১২ জন।
প্রধান অতিথি হিসেবে শেখ হাসিনা সেদিন বিকেল পাঁচটায় সমাবেশ স্থলে আসেন এবং একটি খোলা ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে দাঁড়িয়ে ২০ মিনিট বক্তৃতা করেন। এরপর ‘জয় বাংলা’ বলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার মুহূর্তে শুরু হয় গ্রেনেড হামলা।
আরও পড়ুন:
একুশ আগস্টের ভিকটিমদের ভোলেননি শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয় যেভাবে
গ্রেনেড হামলার এক যুগ: আর মাত্র দুই সাক্ষী বাকি
কুদ্দুসের পরিবার পালিয়েছিল ৬ মাস
নেত্রীর জীবন বাঁচাতে শহীদ হয়েছিলেন মুলাদীর সেন্টু
জন্মদিনের জামা আনা হয়নি মিথিলার বাবার
রেজিয়ার স্বজনদের দাবি ঘাতকদের দ্রুত বিচার
অর্থাভাবে সংস্কার হয় না মাহবুবের কবর
/জেএ/এবি/