বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে আল্লামা আহমদ শফীর প্রেস সেক্রেটারি মাওলানা মুনির আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া আহ্বান জানিয়েছেন। আজ যারা বৈঠকে আসতে পারেননি, তাদের কাছে প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আল্লামা শফী প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে কওমি সনদের স্বীকৃতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন তিনি।’
এদিকে সভায় বেফাক ছাড়া হবিগঞ্জ, ফেনীর আঞ্চলিক বোর্ডের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল। তবে বৈঠকে বৃহৎ কওমি বোর্ড তানজিমুল মাদারিস উত্তরঙ্গ ও গওহরডাঙ্গাসহ অন্যান্য বোর্ডের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। অথচ ঢাকা থেকে হাটহাজারীতে যাতায়াতের জন্য বেফাকের পক্ষ থেকে বিমানের টিকেট ও গাড়িসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বেফাক সূত্র জানায়, ইত্তেহাদুল মাদারিসের আল্লামা সুলতান যওক নদভী ও আল্লামা আবদুল হালিম বোখারীকেও আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তানজিমুল মাদারিস উত্তরঙ্গ ও গওহরডাঙ্গা বেফাকের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাদের কোনও প্রতিনিধি অংশ নেননি। এছাড়া, বেফাকের সহ-সভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী ও মাওলানা আযহার আলী আনওয়ার শাহসহ সিনিয়র অনেক নেতা সভায় অংশ নেননি। তবে বৈঠকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায় ইসলামের যেসব নেতা বেফাকের দায়িত্বে নেই, তারাও অংশ নিয়েছেন। তারা হলেন, মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী, মুফতি মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দীন ইকরাম ও মাওলানা মনজুরুল ইসলাম। বেফাক সদস্য নন এমন জমিয়ত নেতাদের মধ্যে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস (আরজাবাদ) ও মুফতি রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী, মাওলানা মাহফুজুল হক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতি আবু ইউসুফ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরবঙ্গের চারটি বোর্ড নিয়ে গঠিত ‘তানজিমুল মাদারিস আদদিনিয়া আল কওমিয়া’র চেয়ারম্যান মাওলানা আরশাদ রহমানী বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফী ব্যক্তিগতভাবে আমাকে উপস্থিত থাকলে বললে আমি যেতাম। কিন্তু বোর্ডের অন্যদের সিদ্ধান্ত ছাড়া আমি অংশ নিতে পারি না। বোর্ডের ঐক্যের স্বার্থে আমরা বেফাকের সভায় অংশ নেইনি। এছাড়া এত কম সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে যাওয়াও সম্ভব ছিল না।’
এ প্রসঙ্গে বেফাক লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক বোর্ড অংশ নিয়েছে। আবার কোনও কোনও বোর্ড থেকে কোনও প্রতিনিধিই অংশ নেননি। আল্লামা আহমদ শফী সবার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন: মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে দু’টি শোক ও তিনটি অভিনন্দন প্রস্তাব গৃহীত
/এমএনএইচ/