হাতিরঝিলের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনটি ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে আপিল বিভাগ রায় দেওয়ার পরও শেষ চেষ্টা করতে চায় বিজিএমইএ। ৩০ দিনের মধ্যে রায়টি রিভিউয়ের আবেদন করে ভবন টেকানোর যায় কিনা, বিজিএমইএ সেই লড়াই করবে। যদিও আইনজীবীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, রিভিউ আবেদনে খুবই টেকনিক্যাল বিষয় দেখা হয়, মূল আদেশে তেমন কোনও পরিবর্তন হয় না।
আদালতের এ ধরনের মন্তব্যের পর আইনি সব পর্যায় শেষে রিভিউয়ে এসে ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত পাল্টে যাওয়ার কোনও কারণ নেই উল্লেখ করে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিভিউ আবেদন না করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে হবে। নির্দেশনা এমনই। আর রিভিউ আবেদন করলে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে তা করতে হবে। তবে রিভিউতে সাধারণত আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে না। যেসব বিচারপতি রায় দেন, তারাই রিভিউ শোনেন। তারাই দেখেন, রায়ে কোনও বড় ধরনের খুঁত থেকে গেছে কিনা।’
উল্লেখ্য, অনতিবিলম্বে নিজ খরচে ভবনটি ভেঙে ফেলতে বিজিএমইএর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) ভবনটি ভেঙে ফেলতে বলা হয়েছে। ভবন ভাঙার খরচও বিজিএমইএর কাছ থেকে আদায় করতে বলেছেন আপিল বিভাগ। সেই যুক্তিতে পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে পর্যবেক্ষণগুলো আদালত তুলে ধরেছেন, সেগুলো হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের মধ্যে কোন বড় ধরনের ভিন্নতার জায়গা নেই।
রাজউক কিভাবে এই জায়গায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের আগেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। ২০০৩ সালের জুলাইয়ে শর্তসাপেক্ষে বিজিএমইএ ভবনের নকশা অনুমোদন করে রাজউক। এরপর ২০০৬ সালের আগস্টে রাজউক এক চিঠিতে বিজিএমইএকে অননুমোদিত অবকাঠামো সরিয়ে ফেলতে বলে। সেই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের আগে নির্মাণকাজ শুরু করায় বিজিএমইএকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।’
হাইকোর্ট রায়ে বলেন, ‘জমিটির ওপর বিজিএমইএ-এর কোনও মালিকানা নেই। ভবনটি নির্মাণ করে তাদের আর্থিক প্রতিপত্তির কারণে বিজিএমইএ হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে; যা কোনও অবস্থাতেই আইনের শাসনের আঙ্গিকে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বহু আগে থেকে আইনিভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। শেষ চেষ্টা হিসেবে রিভিউ আমরা করব। আদালতের রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বর্তমানে দেশের বাইরে। ফিরে এসেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব। যেহেতু রিভিউ আবেদনের সুযোগ আছে, এখনই আশা ছাড়ছি না।’
- মার্কিন সমাজে বিভক্তি স্পষ্ট করেছে নির্বাচন
- ট্রাম্পকে সস্ত্রীক বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
/আপ-এমও/