ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৬

স্নায়ু থেকে সাহিত্য, সাহিত্য থেকে স্থাপত্যে

 

স্থাপত্য ও স্নায়ুতত্ত্ব বিষয়ক সেশন

সাহিত্য, স্থাপত্যবিদ্যা এবং স্নায়ুবিজ্ঞান। কলা আর বিজ্ঞানের চিরকালের মন কষাকষি তো আছেই, বিষয়বস্তু থেকেও যে এদের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। অথচ বৃহস্পতিবার, ঢাকা লিট ফেস্টের প্রথম দিনে এই তিন শাস্ত্রের মধ্যেই কি চমৎকার মেলবন্ধন দেখালেন তিনবক্তা।

দুপুর তখন দুটো। বাংলা একাডেমির নতুন ভবনের নিচ তলাতেই কে.কে স্টেজ । সেশনের নাম ‘অ্যান ইনটিমেট আর্কিটেকচার: দ্য নিউরোসায়েন্স অব অ্যাসথেটিকস’। এমন কাঠখোট্টা নামের কারণেই বোধহয় অন্যান্য সেশনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল উপস্থিতের সংখ্যা। তবে দর্শনের যে সব মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে সহজ ভাষায় কথা হলো, বোধকরি স্কুলছাত্রেরও তা বুঝতে কষ্ট হতো না।

আমরা যে পৃথিবী দেখি, সেটার সঠিক রূপ আসলে কেমন? আমরা যে চোখে পৃথিবী দেখি, বাকি সবিই কি ঠিক সেভাবেই দেখেন? মানুষে মানুষে উপলব্ধির এই ফারাকের উৎস কি? সেশনের অতিথি ফিনল্যান্ডের বিখ্যাত লেখক ও স্থাপত্যবিদ জুহানি পালাসমা তো বলেই বসলেন, একই আপেল একেক ব্যক্তির দৃষ্টিতে একেক রকম। তাই আপেলের ভক্ষকের সংখ্যা যত, ওই একই আপেলের রূপের সংখ্যা আসলে ততই। এই সব প্রশ্ন ‍নিয়ে সেশনের গোটা আলোচনা ঘুরেছে প্রাচ্য থেকে প্রতীচ্যের দর্শনে। পাশ্চাত্য দর্শনের ফেনোমেনোলজি নিয়ে কথা উঠতেই চলে এসেছে বাউল দর্শন দেহতত্ত্বের কথা্ও। পালাসমা শেষমেষ উপসংহার টানলেন যেনও রবীন্দ্রনাথেই, ‘আমি গোলাপকে বললাম সুন্দর, ‍সুন্দর হলো সে’

সেশনের শেষদিকে আলোচক আবেদ চৌধুরী টেনে নিয়ে আসলেন স্থাপত্যবিদ্যা প্রসঙ্গ। গোটা শাস্ত্রটাকেই যেনও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করলেন পালাসমা। তার মতে, আদিম মানুষ যেমন পৃথিবীতে তার স্থান নির্ধারণ করতে অবতারণা করেছেন নানা মিথের, বর্তমান যুগে আর্কিটেকচারকে ঠিক সেই দায়িত্বই নিতে হবে। আধুনিক যুগে কেবল নগরের সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে নয়, কেবলমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই সৃষ্টি করতেই নয়, বরং মানব অস্তিত্বের মুক্তির বার্তা হয়ে উঠতে হবে স্থাপত্যবিদ্যাকে।

/এফএএন/