এবার গাইবান্ধার এসপিকে তলব

হাইকোর্ট


সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারী’ শব্দটি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক এসপির প্রতিবেদন থেকে পেয়েছেন বলে আদালতকে জানানোয় এবার গাইবান্ধার এসপিকে তলব করা হয়েছে। আগামী ২ জানুয়ারি তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আদালতের তলবে হাজির হয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের কারণে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আদালত তাকে সতর্ক করে দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন। পরবর্তীতে ব্যাখ্যায় তিনি জানান, এই শব্দ তিনি এসপির প্রতিবেদন থেকে পেয়ে আদালতে দিয়েছেন। এই ব্যাখ্যার পর এসপিকে তলব করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ৃয়া। পাশাপাশি এ বিষয়ে করা দু’টি রিট আবেদনের পৃথক পৃথক রুলের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
আদালত জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখেন, এক পর্যায়ে তিনি ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারীরা’ বলে উল্লেখ করেছেন। আদালত এরপরই এ শব্দের ব্যাখ্যা দিতে ১২ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে হাজিরের আদেশ দেন।
গত ৬ ডিসেম্বর শুনানি শেষে সাঁওতালদের পক্ষে করা প্রথম মামলার বাদী স্বপন মূর্মূকেও একই দিন হাজির করতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দেন আদালত।
সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে প্রথম রিটটি দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে গত ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় রিটটি করেন আহত দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হেমভ্রম ও গণেশ মুরমোর স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
এ রিটের শুনানি নিয়ে পরদিন ২২ নভেম্বর সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, গুলি ও হত্যা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট বেঞ্চটি। পাশাপাশি ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, পুলিশের মহাপরির্শক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মহিমাগঞ্জ সুগার মিলের ম্যানেজারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
/ইউআই/টিএন/

আরও পড়ুন: নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক

সাঁওতালদের ঘরবাড়িতে প্রথম আগুন দিয়েছিল পুলিশ! (ভিডিও)