মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) ডিএমপির উত্তর ট্রাফিক বিভাগের মহাখালী ট্রাফিক ক্রসিং ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিউর রহমান একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ১০২ জনকে ২০ টাকা থেকে দুইশ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করে মোট ২,৭৯০ টাকা আদায় করা হয়েছে।’
ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য সচেতনতা সৃষ্টি। যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষি ঘটনা এড়ানোর জন্যই এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।’
মহাখালী ক্রসিংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পথচারীরা লাইন দিয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেছে। যারা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেনি, তাদেরই পুলিশ কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন ছাড়াও বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজে ফুল গাছসহ সবুজ গাছ লাগানোর কারণে সেগুলো ব্যবহারে রাজধানীবাসীর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে চলন্ত সিঁড়ি এখনও অনেক সময় থাকছে বন্ধ।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, গত বছর যেসব এলাকায় ডিএমপি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে সেসব ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে এখনও মানুষ বিপদজনকভাবে রাস্তা পর হচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা মোটর ফুটওভার ব্রিজ এলাকাও। গত বছর এখানে টানা দুই দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও এখনও পথচারীরা হেঁটে ও দৌড়ে রাস্তা পার হন।
মহানগরীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও তা ব্যবহার করতে দেখা যায় না। সবাই রাস্তা পার হন চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়েই। সেখানে পথচারী আসাদুল ইসলাম নামে এক তরুণ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করার বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দ্রুত রাস্তা পার হওয়ার জন্যই ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছি।’
তবে অনেকের অভিযোগ, রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজ গুলো নোংরা থাকে এবং এসব ফুটওভার ব্রিজে অবাঞ্ছিত মানুষের আনাগোনা থাকে। কখনও কখনও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া হকারদের উৎপাত তো রয়েছেই।
ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সাল থেকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের বাধ্য করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসছে। ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি কোর্ট পরিচালিত হয়। এসময় অসংখ্য মানুষকে জরিমানা করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। মানুষের ভেতরে একদিনে সচেতনতা আসবে না। ধীরে ধীরে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।’
মহাখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে ডিএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) প্রবীর কুমার রায়, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক গুলশান) মোহাম্মদ নাজমুল আলম ও মখালী ট্রাফিক জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-
নাখালপাড়া বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ে গেছে অর্ধশত ঘর
‘বইমেলার প্রতিটি ইঞ্চি থাকবে সিসিটিভির আওতায়’
/টিআর/