জানা গেছে, ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন এসেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। আর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা ও আশেপাশে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে ৬১০টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে ১ হাজার ৪৮৯টি। শুধু ঢাকাতেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হিসাব এর কয়েকগুণ বেশি।
এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) বার্ষিক হেলথ বুলেটিন ২০১৫ থেকে জানা যায়, সারাদেশে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে চার হাজার ২৮০ এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৯ হাজার ৬১টি। কিন্তু অবৈধ কিংবা লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতাল-ক্লিনিকের কোনও পরিসংখ্যান অধিদফতরে নেই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবরই বলে এসেছে— ভুয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম একথা বলেন। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক না হলে ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জানুয়ারি সরকারি ওষুধ, মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি রাখার অপরাধে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং জরিমানার প্রতিবাদে রাজশাহীর বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ধর্মঘট ডাকে। এ কারণে দুর্ভোগে পড়ে সেখানকার মানুষ।
অবৈধ ক্লিনিক-হাসপাতালে অভিযান চালানো প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরণের ক্লিনিক রোগীদের সুস্থ করার পরিবর্তে মৃত্যু ঘটায়। তাই অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারও ইচ্ছে হলেই হাসপাতাল-ক্লিনিক খুলে বসে। অথচ সেসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স কিংবা টেকনোলজিস্টও নেই। এসব বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম সাইদুর রহমান (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘র্যাব যে অভিযানগুলো চালায়, সেগুলোর সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত নই। র্যাব একটি ইন্ডিপেনডেন্ট বডি হিসেবে কাজগুলো করে থাকে, নিজ ক্ষমতাবলে তারা অভিযানগুলো পরিচালনা করে।’
যোগ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক বলেন, ‘আমরা তাদের সতর্ক করে লাইসেন্স বাতিল করতে পারি। কিন্তু র্যাবের মতো তাৎক্ষণিকভাবে জেল-জরিমানা করার ক্ষমতা আমাদের নেই। একই সঙ্গে লোকবল যদি আমাদের থাকতো তাহলে আমরা ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ভিজিট করতে পারতাম, আমাদের ক্ষমতা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’
অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনিয়ম দেখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের পৃথক একটি বিভাগ থাকলে ভালো ফলাফল পেতাম আমরা। হাসপাতাল-ক্লিনিকের মতো প্রাইভেট হেলথ কেয়ার সার্ভিসের জন্যও যদি একজন করে পরিচালক থাকতেন তাহলে এতো অনিয়ম হতে পারতো না। অধিদফতরের অধীনেই একজন পরিচালকসহ দু’জন উপ-পরিচালক, চারজন সহকারী পরিচালক ও বেশ কয়েকজন মেডিক্যাল অফিসার দায়িত্ব নিলে সেখানে এতো অনিয়ম হতো না।’
স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক ও বিএমএ’র (বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই মাহবুব বিষয়টি অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেখা উচিত মন্তব্য করে বলেন, ‘তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নেই। এ কারণে তারা কেবল তদন্তের মাধ্যমে লাইসেন্স বাতিল ও বন্ধ করে দিতে পারে। আবার তাদের লোকবলও কম, এ কারণে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হওয়া ছাড়া এই দুর্বৃত্তদের জগতে হাত দেওয়া খুব কঠিন কাজ।’
পৃথিবীব্যাপী এসব বিষয় স্থানীয় সরকার দেখে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই মাহবুব আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোপোরেশন যদি নিজ নিজ এলাকায় বিষয়টি দেখভাল করে তাহলে ভালো হয়। তাই তাদেরকে ক্ষমতাটা দিতে হবে।’
/এমও/জেএইচ/ আপ-এমডিপি/