তারা বলেন, পাবলিক স্পেসগুলোকে নানা কায়দায় দখল করে রাখার পেছনে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরাই জড়িত থাকেন। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘খাল দখলমুক্ত করেছি, মুক্ত রাখবোই। যতদিন নাগরিক আবর্জনা ফেলার বিন ব্যবহার করতে শিখবে না, চুরি করে নিয়ে যাবে, ততদিন বারবার লাগানো হবে। একদিন এর ব্যবহার শিখবেই।’ মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘এই শহর একা মেয়র বা কিছু কর্মকর্তা,কর্মচারীর না। শহরটাকে নিজের মনে করতে হবে।’
ত্রিমোহনী খাল উদ্ধারে গিয়ে খালের মধ্যে জেলা প্রশাসনের মার্কেট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সেটিকে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে ফেলেছি।’ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথা উল্লেখ করে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘এই শহর একা মেয়র বা কিছু কর্মকর্তা, কর্মচারীর না। শহরটাকে নিজের মনে করতে হবে।’
বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশক ড. কাজী আনিস আহমেদ মন করেন, বাসযোগ্য নগরায়ণের পরিকল্পনায় আবাসিক-বাণিজ্যিক এলাকা সঠিক অনুপাতে থাকা জরুরি। এর মিশ্রণটি সঠিকভাবে হলে সমস্যা কমে আসবে। খেয়াল করে দেখা জরুরি পৃথিবীর কোনও দেশে এখন আর কেবল আবাসিক বা কেবল বাণিজ্যিক ধারণা নেই।' বিশ্বের কোথাও এখন আর কেবল আবাসিক বা কেবল বাণিজ্যিক এলাকা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ধারণায় এক ধরনের মিশ্রণ ঘটেছে।’
ধানমণ্ডি লেকের সৌন্দর্য বর্ধন করতে গিয়ে কী ধরনের বিপত্তি ঘটেছে সে আলোচনায় তিনি বলেন, ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম সৌন্দর্য রক্ষার কাজ শুরু করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের সৌন্দর্য রক্ষার কাজ করতে গিয়ে প্রকৌশলীরা লেকের পাড়ে খোলা জায়গায় প্রজাপতির জন্য জায়গা করা হবে ঘোষণা দেন। একটা উন্মুক্ত জায়গাকে নষ্ট করতে এ ধরনের স্থাপনা যথেষ্ট ।’
সরকারের দখলদারিত্বের উদাহরণকেও বিবেচনায় নিতে হবে উল্লেখ করে আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, ‘রাজধানীর বেশকিছু রাস্তা চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করে রাখতে দেখা যায়। রাজধানীর মধ্যে সেনানিবাস ও পিলখানার মতো বড় এলাকা, যার মধ্যে সাধারণ নাগরিকের চলাচলের সুযোগ নেই। এগুলো শুরুতে ঢাকার মধ্যে ছিল না, এখন এটি ঢাকার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ।’
স্থপতি রফিক আজম পার্কগুলোতে গবেষণা করে দেখেছেন দখলমুক্ত হওয়ার পর কেমন পরিবেশ চান নাগরিকেরা এবং সে অনুযায়ী ঢাকার পার্ক সাজানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পার্কগুলোর চারপাশে দেয়াল- গ্রিল তুলে দিয়ে আমরা সুরক্ষিত করতে চাইলে শহরের মানুষ সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। গ্রিল করলে সেটাকে ঘিরে দোকান ওঠে। ফলে আমাদের গবেষণা থেকে বুঝা যাচ্ছে, পার্কের মধ্যে ঝোপঝাড় অন্ধকার রাখা যাবে না।
আমাদের চেনাজানা পরিসরে কোনটি আবাসিক, কোনটি বাণিজ্যিক এলাকা এই চিহ্ন উঠে গেছে। আগে আমরা রাস্তায় আ/এ লেখা দেখতাম মানে আবাসিকএলাকা। এখন আর আবাসিক ও বাণিজ্যে বিভাজন নেই। বৈঠকিতে অভিনয় শিল্পী জাহিদ হাসান এসব কথা বলার পাশাপাশি ছোট ছোট স্থাপনা তৈরি করে ক্লাবের নামে পার্ক দখলের যে উৎসব চলে তার সমালোচনা করেন।
রাজধানীতে যে পরিমাণ মানুষ বাস করে তাদের তুলনায় পার্ক বা খেলার মাঠ নেই, এটি এখন নতুন কোনও কথা নয় বলে সাংবাদিক কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের রাস্তা বা পার্কের যে হিসেব সেটি আমাদের জনগণের অংকের সঙ্গে মেলানো মুশকিল। ঢাকা জনবহুল নগরী হওয়ায় এর যেকোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। তবে আমরা আদৌ ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে দেখতে চাই কিনা সেটি আগে স্পষ্ট করতে হবে।
মিথিলা ফারজানার উপস্থাপনায় বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজিত এ বৈঠকিতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ফলে যে পরিমান জায়গা আমাদের আছে সেখানে এদেশকে অন্যদেশের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ নেই।যে ফাঁকা জায়গাগুলো আছে সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
/ইউআই/ এপিএইচ/