ব্যবহৃত পোশাকেই মিলতে পারে ধর্ষণের প্রমাণ

বনানীর রেইন ট্রি রেস্টুরেন্টে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন যুবক

বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই  তরুণীর একজনের পোশাক এখন পুলিশের কাছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তরুণীর পরিহিত সেই রাতের পোশাক এখন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্যাতনের শিকার তরুণীর এই পোশাক ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণে সহায়ক। ঘটনার এক মাস পর ওই দুই তরুণীর শরীর থেকে ধর্ষণের আলামত না পেলেও পোশাক থেকে সহজেই আলামত পাওয়া যাবে। এদিকে, তরুণীদের দায়ের করা মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ সঠিক বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা।

দুই তরুণীর একজনের পোশাক আলামত হিসেবে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের নারী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিন।

নির্যাতনের শিকার সেই তরুণী বলেছেন, ওই ঘটনার পর আমি দুদিন পর্যন্ত শাওয়ার নেইনি, পোশাকগুলোও ধোয়া হয়নি।

পোশাক মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত কিনা প্রশ্নে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিএনএ প্রোফাইলিং যদি করা যায় তাহলে অভিযুক্তদের সঙ্গে মিলে গেলেই সেটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হবে।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘কেবলমাত্র ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমে কিছু পাওয়া না গেলেও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও সেদিনের ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের সঙ্গে যদি কোনও জবরদস্তি করা হয়ে থাকে, সেটিও ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে।’

‘ফরেনসিক রিপোর্ট ইজ নট সাবজেক্টিভ থিংস’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে তদন্তকারী সংস্থার দক্ষতার ওপরে। তারা যদি দক্ষতার সঙ্গে মামলা তদন্ত করে তাহলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ 

পোশাক এ মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামত বলে অভিমত দিয়েছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী দিলরুবা শারমীন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের পোশাক যদি জোরপূর্বক খোলা হয়ে থাকে, সেখানে অভিযুক্তদের চিহ্ন থাকবে এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট অবশ্যই থাকবে। আর পোশাক পরা অবস্থাতেই যদি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে পোশাকের কোথাও না কোথাও তার আলামত রয়েছে নিশ্চিত।কারণ সেখানে জীবিত বা মৃত স্পাম পাওয়া যাবেই। আর এরজন্য পোশাকের ডিএনএ প্রোফাইলিং করতে হবে। তাহলেই অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তদের গায়ের গন্ধ, ঘাম, গায়ের লোম এবং একজন মানুষের যে রাসায়নিক ক্রিয়া- বিক্রিয়া থাকে সেটা বৈজ্ঞানিকভাবেই বের করা সম্ভব।’

অপরদিকে, সেদিন তারা যে কক্ষগুলোতে ছিল সেই কক্ষের বিছানার চাদর, বালিশের কভারও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলামত বলেও জানান তিনি। এতদিন পর পোশাক থেকে আলামত সংগ্রহ সম্ভব কিনা প্রশ্নে দিলরুবা শারমীন বলেন, ‘পোশাকগুলো যদি না ধোয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেখান থেকে অবশ্যই অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’

বুধবার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর কাছ থেকে সেই রাতের ঘটনার বিস্তারিত শুনে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন দুই তরুণীর অভিযোগ সঠিক। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, অপরাধ বিভাগ ও উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দলের একাধিক কর্মকর্তা বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ সময় মামলার বাদী ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আয়শা সিদ্দিকা মিলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলার ডকেট গত বুধবার বুঝে পেয়েছি। আলামত হিসেবে আমাদের কাছে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর একজনের একটি সালোয়ার আছে। সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতির জন্য আজকালের (বৃহস্পতি-শুক্রবার) মধ্যে আদালতের কাছে আবেদন করা হবে। আদালতের অনুমতি পাওয়া গেলে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য সালোয়ারটি সিআইডি অথবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে।’

/এপিএইচ/

আরও পড়ুন: 

আদালতে জবানবন্দি দিচ্ছেন ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী