দেড়যুগ কারাভোগের পর সেই শিপন খালাস

High-Court-1_2দীর্ঘ দেড়যুগ কারাভোগের পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া পুরান ঢাকার সুত্রাপুরের সেই শিপন অবশেষে খালাস পেয়েছেন। ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতের বিশেষ দায়রা জজ বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরীর এ রায় দেন  গত ৩ এপ্রিল। ওই রায়ের একটি  অনুলিপি বৃহস্পতিবার (১১ মে) বাংলা ট্রিবিউনের হাতে আসে। 




রায়ে আদালত বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হল।’ বিচার শেষে খালাস পেলেও ততদিনে শিপনের জীবন থেকে চলে গেছে ১৭টা বছর। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী কুমার দেবুল দে বলেন, বিচারে বিলম্ব হওয়ায় দীর্ঘদিন আটক থাকায় এখন শিপনের পক্ষে আমরা ক্ষতিপূরণ মামলা করবো। শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ আবেদন করা হবে। ১৯৯৪ সালে পুরান ঢাকার সুত্রাপুরের দুই মহল্লার মধ্যে মারামারিতে একজন খুন হন।  এ ঘটনায় মো.জাবেদ বাদী হয়ে সুত্রাপুর থানায় মামলা করেন।

মামলায় দুই নম্বর আসামি মো.শিপন। এফআইআরে তার বাবার নাম ছিল অজ্ঞাত। পরে অভিযোগপত্রে তার বাবার নাম মো.রফিক দেওয়া হয়। ঠিকানা ৫৯, গোয়ালঘটা লেন, সুত্রাপুর বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর ওই বছরের ৭ নভেম্বর থেকে কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন শিপন। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে শিপনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হলে আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে।

গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর গত ৩০ অক্টোবর আদালত শিপনকে ৮ নভেম্বর হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

ওই নির্দেশে তাকে হাজিরের পর ওইদিন জামিন দেন বিচারপতি এম.ইনায়েতুর রহিম ও জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত আদেশে বলেছেন, ৬০ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার শেষ করতে হবে। সেই সময় পর্যন্ত শিপন জামিনে থাকবেন।

এছাড়াও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর শিপনের কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকলে জেলা ম্যজিস্ট্রেটের কাছে পুর্নবাসনের জন্য একটি আবেদন করতে বলা হয়েছে।

এরপর বিচারিক আদালতে বিচারক কাজ শেষে গত ৩ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন।

এমটি/ইউআই/এসএমএ/

আরও পড়ুন
ছয় মাসে মামলা নিষ্পত্তি না হলে ব্যবস্থা নেবে মনিটরিং সেল

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে না