পিবিআই’র ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. বশির আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মামলার বাদী কাবেরিন আক্তার স্বপ্নার (২৫) এজাহারে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ১০১/০৪/বি দক্ষিণ মুগদার বাসা ছেড়ে গুলবাগের ৪০৮ নম্বর বাসায় একমাত্র কন্যা সন্তান ও ১২ বছরের কাজের মেয়েকে নিয়ে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল আনুমানিক একটার দিকে তিনি বাজারে যান। এই সুযোগে স্বামীর পূর্ব পরিচিত সাব্বির তার ১২ বছরের কাজের মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরে এবিষয়ে কাবেরিন আক্তার স্বপ্না বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাজাহানপুর থানায় একটি মামলা (নং-১৪ তারিখ-২০/১১/২০১৪) দায়ের করেন।
শাজাহানপুর থানা পুলিশ তদন্ত শেষে আসামি সাব্বিরকে গ্রেফতার করতে না পারায় এবং আসামির পিতার নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। পরে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই ঢাকার ডিআইজিকে নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনার পর পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম আহমেদকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারেন, ধর্ষণ ঘটনায় জড়িত সাব্বির আহমেদ শাজাহানপুর ঝিলপাড়ে অবস্থান করছে। এরপরই এডিসি মো. বশির আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম বুধবার (৭ জুন) দিবাগত রাত ১১টায় শাজাহানপুর থানাধীন বাগিচা (ঝিলপাড়) এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে সাব্বির।
ধর্ষণের শিকার শিশুটি ঘটনার পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছে, মামলার বাদী কাবেরিন আক্তার স্বপ্না (২৫) প্রায় সময় সাব্বিরকে বাসায় নিয়ে যেত এবং ঘটনার দিন বাদী নিজেই জোর করে ওই শিশুটিকে সাব্বিরের রুমে যেতে বাধ্য করেন। গ্রেফতারের পর সাব্বির পুলিশকে জানায়, দীর্ঘদিন আমেরিকায় থেকে ২০০৫ সালে তিনি দেশে আসেন। এরপর মামলার বাদী স্বপ্নার সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। স্বপ্নার মাধ্যমে এবং তার সহযোগিতায় শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে সে।
/জেইউ /এপিএইচ/