ঈদে ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে থাকছে ১৪ হাজার বাস

গাবতলীতে সারিবদ্ধ বাস, ছবি-অনলাইন থেকে সংগৃহীতঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় এবার রাজধানী থেকে সারাদেশের জন্য প্রস্তুত থাকছে ১৪ হাজার বাস। বেসরকারি পরিবহন মালিকদের নিয়মিত ১০ হাজার বাসের পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজন মেটাতে আরও ৩ হাজার বাস মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) নিয়মিত যানবাহনগুলোর পাশাপাশি থাকছে আরও এক হাজার বিশেষ সার্ভিস। যাত্রী হয়রানি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অতিরিক্ত দাম ঠেকাতে প্রশাসন, যাত্রী প্রতিনিধি, শ্রমিক ও মালিকদের সমন্বয়ে বিশেষ একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পরিবহন মালিক ও বিআরটিএ সূত্র বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এই ঈদে স্বল্প দূরত্বের বাসগুলো দৈনিক দুই থেকে তিনবার যাতায়াত করবে। আর দূরপাল্লার বাসগুলো একটি করে ট্রিপ দিবে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ঢাকা থেকে ১০ হাজার ভালো বাস প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাবে। ঈদের জন্য আরও ৩ হাজার বাসের ব্যবস্থা রয়েছে। যদি প্রয়োজন মনে হয় সেই বাসগুলোও রাস্তায় নামানো হবে।

এবছর যে কোনও হয়রানি রোধেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। বাস মালিক সমিতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঈদের আগে এই কমিটি নগরীর বাস টার্মিনালগুলোতে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম চালাবে। ঈদ যাত্রা শুরু হলে পুরোদমে মাঠে থাকবে এই কমিটি।

এনায়েত উল্লাহ আরও বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরও আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এছাড়া এখন থেকে প্রতিটি টার্মিনাল বা বাস কাউন্টারগুলোতে বিশেষ সচেতনতামূলক সভা সমাবেশ করে যাচ্ছে। এই কমিটি সবখানে বিশেষ মনিটরিং করবে।

অপরদিকে, বিআরটিসির ঘাট কমাণ্ডার বাবুল কান্তি শীল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এই ঈদে প্রাথমিক বৈঠকে বিআরটিসির ৯০০ স্পেশাল বাস সার্ভিস নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে আরও ১০০টি বাস রিজার্ভ থাকবে। যদি কোনও রুটে কোনও বাসের সমস্যা হয় তাহলে রিজার্ভ বাসগুলো সেগুলোর পরিবর্তে যাত্রা করবে। কয়েকদিন পর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন।

এছাড়া প্রতিবছরের মতো এবছরও বিআরটিসির ৭টি ডিপো থেকে বিআরটিএর স্পেশাল সার্ভিসগুলো ছেড়ে যাবে। এসব ডিপো থেকে পাওয়া যাবে বিআরটিএর অগ্রিম টিকেটও। ডিপোগুলো হচ্ছে মতিঝিল, গাজীপুর, জোয়ারসাহারা, উথলী, নারায়ণগঞ্জ, কল্যাণপুর এবং মহাখালী দ্বিতল বাস ডিপো।

এবারের ঈদে ১২ জুন থেকে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি হবে। ওই দিন থেকে ঈদের আগের যে কোনও দিনের বাসের টিকেট পাওয়া যাবে। ঈদ যাত্রায় বাসের টিকেটের দাম না বাড়ানোর নির্দেশ থাকলেও প্রতিবছর ঈদের সময় এই টিকেট দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করে বাস মালিকরা।

এই ঈদেরও এমনটা হবে কিনা জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, টিকেটের কোনও দাম বাড়ছে না। যদি কেউ এর দাম বাড়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও যাত্রী যদি অতিরিক্ত দামের টিকেট আমাদের কাছে জমা দেন আমরা আইন ও সাংগঠনিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সোহেল তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ১২ জুন ঢাকা থেকে সারাদেশের বিভিন্ন রুটের বেসরকারি বাসের টিকিটও বিক্রি শুরু হবে। ওইদিন সকাল থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যতক্ষণ টিকিট থাকে, ততক্ষণ টিকিট বিক্রি হবে।

এদিকে টিকিটে ভাড়া আদায়কারী যে কোনও বাসেই নারী, প্রতিবন্ধ ও শিশুদের জন্য কোনও সংরক্ষিত আসন থাকছে না। বিআরটিএর পক্ষ থেকে বাসে কমপক্ষে ৬টি আসন সংরক্ষিত ঘোষণা করলেও স্বল্প দূর বা দূর পাল্লা কোনও বাসই তা মানছে না।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এনায়েত উল্লাহ বলেন, আসলে দূর পাল্লার বাসে এই সুযোগ নেই। সবাইতো টিকেট কিনেই বাসে উঠেন। কেউ দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন না। এখানে সবার জন্য আসন সমান। এই আদেশ মালিকদের পক্ষে মান্য করাও সম্ভব না।

/এসএস/টিএন/

আরও পড়ুন: 
আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হবেন অর্থমন্ত্রী