এর আগে গত পহেলা জুলাই সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উম্মে সালমাকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি প্রদান করা হবে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। খবরটি ব্যাপক প্রচার পেলে সেসময় সবাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানায়।
প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, উম্মে সালমা প্রথম শ্রেণির যে পদটির জন্য আবেদন করেছিলেন, ওই পদে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নিয়োগ অস্থায়ী থেকে স্থায়ী করা হয়েছে।
নিহত এসি রবিউলের সহোদর শামসুজ্জামান শামস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগের সকল যোগ্যতা থাকার পরও তৃতীয় শ্রেণিতে নিয়োগ দেওয়া যৌক্তিক নয়। আমরা এতে আশাহত হয়েছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের পহেলা অক্টোবর জাতীয় দৈনিকে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে রেজিস্ট্রার অফিসে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ (প্রথম শ্রেণি) বিভিন্ন শ্রেণিতে আরও ১৩ টি পদের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদের জন্য শিক্ষাজীবনের সকল পর্যায়ে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি ও স্নাতক (সম্মান) সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরোপিত সকল যোগ্যতা থাকায় উম্মে সালমা ওই পদের জন্য আবেদন করেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিটি তাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) উম্মে সালমাকে একটি অফিস আদেশ পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত ওই আদেশে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার অফিসে উচ্চমান সহকারী পদে (তৃতীয় শ্রেণি) ৯০ দিনের জন্য মাস্টাররোলের ভিত্তিতে (কাজ করলে মজুরি) নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়। আরও বলা হয়, এর জন্য তিনি দৈনিক ৫২৫ টাকা করে মজুরি পাবেন এবং চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে নিয়োগ কার্যকর হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজিব চক্রবর্তীকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই আ্যডহক ভিত্তিতে (অস্থায়ী) রেজিস্ট্রার অফিসের শিক্ষা শাখায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন উপাচার্য। ওই সময় একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের আরও তিন জন সাবেক নেতা ও দুই কর্মকর্তার স্বজনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই পদে রাজিব চক্রবর্তীর নিয়োগ স্থায়ী করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘উম্মে সালমার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হওয়ায় তাকে ওই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।’
এদিকে অসহায় একটি পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
রবিউলের পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও জাবির সাবেক শিক্ষার্থী নূর সিদ্দিকী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘সালমার সঙ্গে এমন প্রহসন কেন? রবিউলের স্ত্রীকে আপনারা চাকরি দিচ্ছেন ঘোষণা দিয়ে জনসংযোগ বিভাগ থেকে পত্রিকাগুলোতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে, তা ছাপার পর সারাদেশের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়ে এখন কেন হীন মানসিকতা প্রকাশ করছেন মাননীয় উপাচার্য? উম্মে সালমা দয়া চান না। রবিউলের মর্যাদাই তিনি রক্ষা করবেন।’
আরেক সাবেক শিক্ষার্থী মারুফ মল্লিক বলেন, ‘শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের স্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত মশকরা করলো জাহাঙ্গীরনগর কর্তৃপক্ষ। মানুষের চিন্তা চেতনা কতটা নিচে নামলে এসব মশকরা করে, তার সব থেকে বড় উদাহরণ জাবির কর্তৃপক্ষ। ভাবতে খারাপ লাগে আমি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছি, সেখানে কিসব লোকজন এখন দায়িত্বে আছে।’
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘উম্মে সালমার নিয়োগের ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার কমতি নেই। তিনি দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে ছিলেন এবং অভিজ্ঞতায়ও কিছুটা ঘাটতি ছিল। তাই প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ভিন্নমত আসলে আমরা অব্যশই সেটি বিবেচনা করবো।’
আরও পড়ুন: দৈনিক ৫২৫ টাকার চাকরির বদলে এবার অ্যাডহক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসি রবিউলের স্ত্রী
/এপিএইচ/